শিলিগুড়ি, ৩০ জুন:
শিলিগুড়ির গঙ্গানগর এলাকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় পরিবারের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য। তাঁদের মধ্যে বড় মেয়ের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট না হলেও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসন।
ঘটনাটি শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গানগর এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই পরিবারের একের পর এক সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে বমি, শারীরিক দুর্বলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থদের মধ্যে বড় মেয়ের অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাঁর কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। পরিবারের মা-ও হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাঁর কাছ থেকে এখনও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ওমপ্রকাশ যাদব জানান, পরিবারের তিনটি সন্তানই নিয়মিত স্কুলে যেত এবং সকলেই সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করত। আগে থেকে তাদের কোনও গুরুতর অসুস্থতার খবর এলাকাবাসীর জানা ছিল না। তাই একসঙ্গে পরিবারের এতজন সদস্যের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
পরিবারের সদস্য পায়েল দাস জানান, শনিবার রাতে বাড়িতে রুটি ও ভাজি রান্না হয়েছিল। তিনি নিজে সেই খাবার খাননি, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা সেই খাবার খেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, রবিবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও পরে অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়।
পায়েল আরও জানান, রবিবার রাতে তাঁর বড় বোন অঞ্জলি দাসের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে আর্য নিকেতন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। পায়েলের দাবি, তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বড় বোন এখনও সংকটজনক অবস্থায় রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, পরিবারের কর্তা কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকেন। পরিবারের এই আকস্মিক বিপর্যয়ের খবর পেয়ে তাঁর দ্রুত বাড়ি ফেরার চেষ্টা চলছে।
একই পরিবারের একাধিক সদস্য একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়া, কোনও বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ বা অন্য কোনও স্বাস্থ্যগত কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে খাবারের নমুনা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং তদন্তের ভিত্তিতেই অসুস্থতার সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং অসুস্থদের সুস্থতার কামনা করেছেন।

