কোচবিহার, ৭ সেপ্টেম্বর
বাড়ির ভিতরে খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়েছিল দুটি টিয়া পাখি। গোপন সূত্রে সেই খবর পৌঁছতেই নড়েচড়ে বসে বনদপ্তর। এরপর পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কোচবিহার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি টিয়া পাখি উদ্ধার করলেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এদিন কোচবিহার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বাড়িতে অভিযান চালায় বনদপ্তর। অভিযানে বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিল পুলিশও।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বন্য পাখি বাড়িতে আটকে রেখে পালন করা আইনত দণ্ডনীয়। সেই নির্দেশকে উপেক্ষা করেই ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি টিয়া পাখি রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি টিয়া পাখির সন্ধান পান বনদপ্তরের আধিকারিকরা। এরপর পাখি দুটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন তাঁরা।
উদ্ধারের পর দুটি টিয়া পাখিকে নিয়ে যাওয়া হয় কোচবিহার-১ রেঞ্জ অফিসে। সেখানে পাখি দুটির শারীরিক অবস্থা-সহ অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বন্য পাখি বা বন্যপ্রাণীকে বাড়িতে আটকে রাখা বেআইনি। শুধু শখের বসে বন্য পাখি বাড়িতে পালন করলেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, শুধু এই বাড়িতেই কি বেআইনিভাবে বন্য পাখি পালন করা হচ্ছে? নাকি শহরের আরও কিছু বাড়িতেও রয়েছে এমন ঘটনা? সেই বিষয়টিও নজরে রাখছে বনদপ্তর।
বনদপ্তরের তরফে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করা হয়েছে, কোথাও বেআইনিভাবে বন্য পাখি বা অন্য কোনও বন্যপ্রাণী আটকে রাখা হয়েছে বলে খবর থাকলে তা দ্রুত বনদপ্তরকে জানাতে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের সহযোগিতার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
কোচবিহার শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এই অভিযানের পর ফের একবার সামনে এল বন্য পাখি বাড়িতে আটকে রাখার আইনি দিকটি। উদ্ধার হওয়া দুটি টিয়া পাখির পরবর্তী ব্যবস্থা কী হয়, এখন সেদিকেই নজর।
#CoochBehar #ForestDepartment #ParrotRescue #WildlifeProtection #WildlifeCrime #BirdRescue #ForestDepartmentAction #CoochBeharNews #WestBengal #WildlifeConservation

