আজও বাংলা জুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা জারি রয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলায় ২০–৩০% অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের জন্য মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে বৃষ্টিপাত হলেও অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম থেকে এখনই স্বস্তি মিলছে না।
আগামী কয়েকদিন মোটামুটি একই ধরনের আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সপ্তাহের শেষের দিকে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।
বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান করবেন না এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।
🔴উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া :-
*************************
৬ আগস্ট ২০২৬ উত্তরবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং এর সাথে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শক্তিশালী মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে সামগ্রিকভাবে আকাশ প্রধানত মেঘলা থাকবে।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের অতি ভারী বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে বৃহস্পতিবারও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বাতাস ও আর্দ্রতা: দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৮ মাইল বেগে বাতাস বইতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৮২% থাকবে, যার কারণে কিছুটা আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে।
সতর্কতা: পাহাড়ি অঞ্চলে আগের টানা বৃষ্টির কারণে ধস নামার ঝুঁকি এবং নদীগুলোর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৩২° সেলসিয়াস
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২৭° সেলসিয়াস
আর্দ্রতা: ৮২% (যার ফলে দিনের বেলা বেশ অস্বস্তিকর গরম ও ভ্যাপসা ভাব অনুভূত হতে পারে)
বাতাসের গতিবেগ: দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৮ মাইল
পূর্ববর্তী দিনগুলোর ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার ঝুঁকি রয়েছে এবং তিস্তা, তোর্সা ও জলঢাকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
🔴দক্ষিনবঙ্গের আবহাওয়া :-
**************************
৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশের কারণে এবং সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই এই আর্দ্র ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে।
জেলাভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস
ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি: ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (IMD)-এর সতর্কতা অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়া জেলায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাত: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়ার মতো জেলাগুলিতে প্রায় ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়া: বৃষ্টির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মেঘলা আকাশ, তীব্র বজ্রপাত এবং হালকা থেকে মাঝারি গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৩১° থেকে ৩২° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২৬° থেকে ২৭° সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে।
আর্দ্রতা: বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।
সতর্কবার্তা
নিচু এলাকাগুলিতে সাময়িক জল জমার (Waterlogging) সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সময় সাধারণ মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার এবং আবহাওয়া দফতরের গাইডলাইন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত এবং রিয়েল-টাইম আপডেটের জন্য আপনি IMD আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটটি দেখতে পারেন
🔴কোচবিহারের আবহাওয়া
**************************
৬ আগস্ট ২০২৬ কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির (Scattered Thunderstorms) সম্ভাবনা রয়েছে এবং আকাশ প্রধানত মেঘলা থাকবে। এদিন শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে।
আবহাওয়ার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
বাতাসের গতিবেগ: দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৬ থেকে ১০ মাইল বেগে বাতাস বইতে পারে।
আর্দ্রতা: গড় আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৭৩% থাকবে, যার ফলে আসল তাপমাত্রার চেয়ে গরম বেশি অনুভূত (Feels Like ৪৩°C পর্যন্ত) হতে পারে।
সতর্কতা: দুপুরের পর (১টা থেকে ৪টের মধ্যে) বজ্রপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, তাই জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বেরোলে ছাতা সাথে রাখা ভালো।

