আলিপুরদুয়ার, ১০ জুন:
দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের চুয়াপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি সাব্বির লোহরাকে। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নামে একাধিক ভুয়ো বিল পাস করানো হয়েছে। কখনও নিজের নামে, আবার কখনও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিল পাশ করিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই চুয়াপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব ছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সম্প্রতি বিজেপির পক্ষ থেকে সাব্বির লোহারার বিরুদ্ধে কালচিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়, গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়ো বিল দেখিয়ে সরকারি অর্থ তছরুপ করা হয়েছে এবং সেই কাজে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। তদন্তের ভিত্তিতে সাব্বির লোহারাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার তাঁকে আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক নথিপত্র ও বিল সংক্রান্ত তথ্যও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন সাব্বির লোহারা। তিনি দাবি করেছেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। বিরোধীরা রাজনৈতিক স্বার্থে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক অলক মিত্র বলেন, “গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব ছিলাম। তদন্ত এগোলে আরও অনেক তথ্য সামনে আসবে। তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা একে একে আইনের জালে ধরা পড়বেন।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সরকারি প্রকল্পের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা উচিত।
বর্তমানে পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় আলিপুরদুয়ার জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

