বক্সিরহাট, ২৩শে মার্চ :
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই বাংলা-অসম সীমানায় নিরাপত্তা তুঙ্গে। রবিবার রাতে ও সোমবার সকালে কোচবিহার জেলার বক্সিরহাট থানা এলাকার দুটি পৃথক নাকা চেকিং পয়েন্ট থেকে তিনটি ছোট চারচাকা গাড়ি থেকে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৩ লক্ষ ১৩ হাজার ৮৫৭টাকা বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ ও এসএসটি টিমের আধিকারিকরা। নির্বাচনের মুখে এই নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলাজুড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে অসম থেকে বাংলায় প্রবেশের পথে জোড়াই মোড় এবং সংকোশ এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নাকা পয়েন্টে তল্লাশি চালানোর সময় বক্সিরহাটের জোড়াই মোড় নাকা চেকিং পয়েন্টে বাংলার নম্বরের একটি চার চাকা গাড়ি আটক করে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। তল্লাশিতে গাড়ির ভেতরে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ৫৭ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার হয়। গাড়িতে থাকা দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা বীরেন্দ্র সাহা এই টাকার কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ সেই টাকা বাজেয়াপ্ত করে। এবং প্রায় একই সময়ে সংকোশ নাকা চেকিং পয়েন্টে কুমারগ্রামের বারবিশার বাসিন্দা বিকাশ সাহার গাড়িতে তল্লাশি চালায় বক্সিরহাট থানার পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় নগদ ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৩০০ টাকা। তিনিও টাকার কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। ২৪ ঘণ্টা থাকতে না পারতেই সোমবার সকালে ফের সংকোশ নাকা পয়েন্টে অসম নাম্বারের একটি চারচাকা গাড়ি অসম থেকে বাংলা প্রবেশের সময় গাড়িটিকে আটক করেন এসএসটি টিম ও কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা সেই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে নগদ ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। অসমের বাসিন্দা টোটন ভৌমিক টাকাগুলির বৈধ নাতি দেখাতে না পারায় পুলিশ সেই টাকা গুলি বাজেয়াপ্ত করে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সঠিক নথি ছাড়া নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি নগদ অর্থ বহন করা দণ্ডনীয়। তাই কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় সম্পূর্ণ টাকাটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তবে নির্বাচনের আগে এই টাকা কোনো অসাধু কাজে বা ভোটারদের প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে বক্সিরহাট থানার পুলিশ।

