ডুয়ার্স, ২৩ জুলাই:
সিকিমের মর্মান্তিক টানেল দুর্ঘটনায় নিহত ডুয়ার্সের মাটিয়ালি ব্লকের তিন তরুণের নিথর দেহ অবশেষে বুধবার গভীর রাতে তাদের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলেও প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়া হল না জীবিত অবস্থায়। দেহগুলি বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকের আবহে স্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ, কান্নায় ভেঙে পড়েন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার রাতে নাগরাকাটা বিধানসভার বিধায়ক পুনা ভেংরা নিজে সিকিমে গিয়ে নিহতদের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে ডুয়ার্সে নিয়ে আসেন। গভীর রাতে একে একে কিলকোট চা বাগানের ১১ নম্বর লাইনের বাসিন্দা বিকেশ্বর ওরাও, শিবা লোহার এবং ইনডং চা বাগানের বাসিন্দা শ্যাম ওরাওঁ-এর মরদেহ তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ কয়েকদিনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা এবং অপেক্ষার পর যখন তিন তরুণের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়, তখন শোকের আবহে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা এলাকা। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। প্রতিবেশীরাও শেষবারের মতো প্রিয়জনদের দেখতে ভিড় জমান। এদিনই সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে তিনজনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিধায়ক পুনা ভেংরা। তিনি হাতজোড় করে মৃতদের পরিবারের কাছে সমবেদনা জানান এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। এই শোক কোনওভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকার মৃতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সবরকম সহযোগিতা করা হবে।”
বিধায়ক আরও জানান, টানেলের ভিতরে এখনও বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল দিনরাত এক করে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার এবং নিখোঁজদের সন্ধানে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুধু তিনটি পরিবারকেই নয়, গোটা ডুয়ার্সকেই গভীর শোকের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে। কর্মসংস্থানের খোঁজে ভিনরাজ্যে গিয়ে এভাবে প্রাণ হারাতে হওয়ায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও বেদনার সুর শোনা যাচ্ছে। নিহতদের স্মৃতিতে এদিন গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

