শিলিগুড়ি, ২৩ জুলাই:
বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনে হঠাৎ পুলিশের তল্লাশিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রধাননগর থানা এবং শিলিগুড়ি থানার পুলিশ যৌথভাবে কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগে অভিযান চালায়। আকস্মিক এই তল্লাশির খবর ছড়িয়ে পড়তেই কর্পোরেশন চত্বরে কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে জন্ম শংসাপত্র এবং মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু কাগজপত্রই নয়, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কম্পিউটারে সংরক্ষিত ডিজিটাল তথ্য ও ডেটাবেসও পরীক্ষা করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। শংসাপত্র ইস্যুর প্রক্রিয়া, নথিভুক্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তা যাচাই করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, তদন্তকারী দল কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট দফতরে দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করে বিভিন্ন সরকারি নথি, আবেদনপত্র, নিবন্ধন রেজিস্টার এবং ডিজিটাল রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করেন। প্রয়োজনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পুরসভা এবং স্থানীয় প্রশাসনিক দফতরে নথি যাচাই ও তদন্ত চলছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। শিলিগুড়ি পুরনিগমে এদিনের অভিযানকেও সেই বৃহত্তর তদন্তের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
যদিও শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনে কোনও নির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কি না, কিংবা কোনও মামলা বা অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ তদন্তকারী আধিকারিকরা।
এদিকে আকস্মিক এই পুলিশি তল্লাশিকে ঘিরে কর্পোরেশনের কর্মীদের মধ্যেও কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত, তদন্তের প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হতে পারে। তবে তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে।
রাজ্যজুড়ে প্রশাসনের এই নজরদারি অভিযানের ফলে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।

