শিলিগুড়ি, ১৭ জুন:
আসন্ন শারদোৎসবকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি। শহরের মধ্যে সর্বপ্রথম খুঁটি পুজোর মাধ্যমে এবারের দুর্গোৎসবের সূচনা করল জাতীয় শক্তি সংঘ ও পাঠাগার। বুধবার আষাঢ় মাসের ২ তারিখে শুভ তিথি মেনে চম্পাসারি এলাকার শ্রীগুরু স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় এই খুঁটি পুজো। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, মন্ত্রোচ্চারণ এবং ক্লাব সদস্যদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এই শুভ সূচনা।
এখনও পর্যন্ত শহরের অন্য কোনও পুজো কমিটি খুঁটি পুজো সম্পন্ন না করায় কার্যত শিলিগুড়ির দুর্গোৎসবের ঢাকে প্রথম কাঠি পড়ল জাতীয় শক্তি সংঘ ও পাঠাগারের হাত ধরেই। ফলে পুজোপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে এবারের আয়োজনকে ঘিরে।
উল্লেখ্য, এবার ক্লাবটি তাদের ৪৪তম বর্ষে পদার্পণ করছে। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শিলিগুড়ির দুর্গাপুজোর মানচিত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে এই ক্লাব। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বিগ বাজেটের পুজো হিসেবে পরিচিত জাতীয় শক্তি সংঘ ও পাঠাগার প্রতি বছরই অভিনব চিন্তাধারা, ব্যতিক্রমী থিম, দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপসজ্জা, মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা এবং শৈল্পিক প্রতিমা নির্মাণের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।
ক্লাবের উদ্যোক্তাদের দাবি, এবছরও দর্শনার্থীদের জন্য একাধিক নতুন চমক অপেক্ষা করছে। যদিও এখনই থিম বা মণ্ডপের মূল ভাবনা প্রকাশ করতে নারাজ আয়োজকরা। তাঁদের কথায়, পুজোর আগে ধীরে ধীরে সেই রহস্য উন্মোচন করা হবে। তবে এতটুকু নিশ্চিত যে, গত বছরের তুলনায় এবারের আয়োজন আরও বৃহত্তর এবং আরও আকর্ষণীয় হতে চলেছে।
জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবারের পুজোর বাজেট প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মণ্ডপ নির্মাণ এবং শিল্পকর্মের জন্য রাজ্যের বাইরেও অভিজ্ঞ শিল্পীদের আনা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের মতে, এবারের মণ্ডপ নির্মাণে সময়সাপেক্ষ ও সূক্ষ্ম শিল্পকর্মের প্রয়োজন হওয়ায় আগেভাগেই খুঁটি পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মণ্ডপের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও নকশা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
প্রতি বছরের মতো এবছরও পুজো প্রাঙ্গণে থাকবে জমজমাট মেলা, দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর তৎপরতা এবং সুষ্ঠু ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। ফলে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, পারিবারিক বিনোদন ও সামাজিক মিলনমেলার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে এই পুজো প্রাঙ্গণ।
শুধু জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপুজো আয়োজনই নয়, বছরভর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে জাতীয় শক্তি সংঘ ও পাঠাগার। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ৪৪তম বর্ষের দুর্গোৎসবকে ঘিরে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন শুরু হওয়ায় ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে শারদোৎসবের আগমনী আমেজ। আর সেই আবহে শহরের প্রথম খুঁটি পুজো করে এবারের দুর্গোৎসবের সূচনা করল জাতীয় শক্তি সংঘ ও পাঠাগার। এখন অপেক্ষা শুধু মহালয়া থেকে পূজার চার দিনের মহোৎসবের।

