কোচবিহার, ১ জুলাই:
দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় চিকিৎসক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ১ জুলাই সারা দেশে জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালন করা হয়। চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ, মানবসেবা এবং সমাজের প্রতি তাঁদের অসামান্য অবদানকে সম্মান জানাতেই এই বিশেষ দিনটি উদযাপিত হয়।
এই উপলক্ষে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে জাতীয় চিকিৎসক দিবস পালন করা হয়। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক, অধ্যাপক, স্বাস্থ্যকর্মী, নার্সিং স্টাফ, মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ঐতিহ্য মেনে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। এরপর ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপস্থিত সকলেই তাঁর কর্মময় জীবন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং জনসেবার আদর্শকে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান মানবিক দায়িত্ব। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা ও সুস্থতার জন্য চিকিৎসকেরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। বিশেষ করে দুর্যোগ, মহামারি কিংবা যেকোনো সংকটের সময় চিকিৎসকদের ভূমিকা সমাজের কাছে অনন্য হয়ে উঠেছে। তাঁদের এই আত্মনিবেদন এবং মানবিক সেবাকে সম্মান জানাতেই জাতীয় চিকিৎসক দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।
চিকিৎসক দিবস উপলক্ষে এদিন একটি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরেরও আয়োজন করা হয়। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতালের কর্মী এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা উৎসাহের সঙ্গে রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন মানবসেবার বার্তা বহন করে, অন্যদিকে হাসপাতালের রক্তভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানের শেষে চিকিৎসকদের সমাজের প্রতি নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক সেবার জন্য তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়। মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসক দিবসের এই উদযাপন উপস্থিত সকলের কাছেই হয়ে ওঠে শ্রদ্ধা, সম্মান এবং মানবসেবার এক অনন্য বার্তা।

