মাথাভাঙ্গা, ২ জুলাই:
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আবাস যোজনা নিয়ে কাটমানি ফেরতের দাবিকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা ১ নম্বর ব্লকে। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের চাপের মুখে শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি মাথাভাঙ্গা ১ নম্বর ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কানফাটা ৫/৮০ নম্বর বুথ এলাকার। বৃহস্পতিবার সেখানে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, ওই সভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি প্রসেনজিৎ বর্মণ প্রায় ৩৫ জন উপভোক্তার হাতে মোট ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেন।
স্থানীয় সূত্র ও উপভোক্তাদের অভিযোগ, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে আগে বিভিন্ন সময়ে ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেই অর্থ ফেরতের দাবিতে এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীদের চাপের মুখেই ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি উপভোক্তাদের একাংশের।
এদিন টাকা ফেরত পাওয়ার পর স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেন উপভোক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও চাপের পর অবশেষে কিছুটা হলেও ন্যায় মিলেছে। তবে একইসঙ্গে তাঁরা দাবি করেছেন, এই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। বিরোধীদের দাবি, আবাস যোজনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে কাটমানির অভিযোগ উঠছে, তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি প্রসেনজিৎ বর্মণের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
ঘটনার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের দাবি, টাকা ফেরত দেওয়া হলেও পুরো বিষয়টির স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত, যাতে প্রকৃত সত্য সামনে আসে।

