শিলিগুড়ি, ১৩ জুন:
শপিং মল থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের কবলে পড়ে আইফোন ও নগদ টাকা খোয়াতে হল এক যুবককে। তবে অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দ্রুত পদক্ষেপ করে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া আইফোন এবং কিছু নগদ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রায় ২টা নাগাদ দুই যুবক নিজেদের চারচাকা গাড়িতে করে আমবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারা মাটিগাড়া এলাকা থেকে দার্জিলিং মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় একটি স্কুটিতে চেপে তিন যুবক তাঁদের গাড়ির পিছু নেয়। পরে সুযোগ বুঝে গাড়ির পথ আটকায় অভিযুক্তরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর অভিযুক্তরা তাঁদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে এবং জোর করে একজন যুবকের কাছ থেকে একটি আইফোন ও ১০ হাজার টাকা নগদ ছিনিয়ে নেয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় তিন দুষ্কৃতী। রাতের অন্ধকারে অভিযুক্তদের ধরতে না পারলেও পরদিন ঘটনাটি নিয়ে মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে মাটিগাড়া থানার পুলিশ। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা, স্থানীয় সূত্রের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তদন্তের সূত্র ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় মাটিগাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় সাদা পোশাকের পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়।
অভিযানে তিন যুবককে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম—
- নেহাল মাহাতো (১৮), ঝংকার মোড়ের গোয়ালাপট্টি এলাকার বাসিন্দা।
- সন্তোষ রাজভর (১৮), শিশুডাঙ্গি এলাকার বাসিন্দা।
- কুকিল রায় (২০), মহানন্দা কলোনির বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধৃতদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার হয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শনিবার ধৃতদের শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হবে। পুলিশ তাদের হেফাজতের আবেদন জানাতে পারে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড আছে কিনা।
পুলিশের অনুমান, এটি পরিকল্পিত ছিনতাইয়ের ঘটনা হতে পারে। তাই ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা চক্রের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে ছিনতাই হওয়া বাকি সামগ্রী ও নগদ অর্থ উদ্ধারের কাজও অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গভীর রাতে শহর ও শহরতলির রাস্তায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে অভিযুক্তদের গ্রেফতার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ।

