শিলিগুড়ি, ১৫ জুলাই:
শিলিগুড়ি সংলগ্ন জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দুধিয়ায় বালাসন নদীর বুকে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করে চরম বিপাকে পড়লেন কয়েকজন যুবক-যুবতী। বর্ষাকালে নদীর জলস্তর আচমকাই বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের গাড়িটি মাঝনদীতেই আটকে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় গাড়িতে থাকা সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ নদীর মাঝেই আটকে ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছুটির দিন কাটাতে এবং নদীর চর এলাকায় ঘুরতে ওই যুবক-যুবতীরা একটি ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বালাসন নদীর বুকে প্রবেশ করেছিলেন। প্রথমে নদীতে জলের পরিমাণ কম থাকায় কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই উজান থেকে প্রবল স্রোতের সঙ্গে জল নেমে আসতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে থাকে এবং গাড়ির চারপাশে জল জমে যায়। পরিস্থিতি এমন হয়ে ওঠে যে গাড়িটি আর সামনে বা পিছনে কোনও দিকেই সরানো সম্ভব হয়নি।
গাড়িটি মাঝনদীতে আটকে পড়ার পর যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে আশপাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাঁরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে গাড়িতে থাকা প্রত্যেককে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। স্থানীয়দের তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নদীর মাঝখানে আটকে থাকা গাড়িটি সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বহু মানুষ নদীর ধারে ভিড় জমান। অনেকেই গোটা ঘটনার ভিডিও ও ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, বর্ষার সময় বালাসন নদীর জলস্তর কখন যে হঠাৎ বেড়ে যাবে, তা আগে থেকে বোঝা প্রায় অসম্ভব। তাই নদীর চর বা মাঝনদীতে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতি বছর বর্ষাকালে বালাসন নদীতে উজান থেকে হঠাৎ জল নেমে আসার ঘটনা নতুন নয়। আবহাওয়ার পরিবর্তন কিংবা পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা জারি করা হয় এবং নদীর চর এলাকায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবুও অনেকেই সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে গাড়ি নিয়ে নদীর বুকে চলে যান, যার ফলে প্রায়ই এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদন, বর্ষার সময় বালাসন নদীর চর, মাঝনদী কিংবা জলপ্রবাহের কাছাকাছি গাড়ি নিয়ে যাওয়া থেকে সকলের বিরত থাকা উচিত। সামান্য অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অযথা প্রবেশ না করাই নিরাপদ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

