শিলিগুড়ি, ১৬ জুলাই:
রথযাত্রার শুভ তিথিকে সামনে রেখেই শুরু হল শিলিগুড়ির অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মিত্র সম্মিলনীর দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, ধর্মীয় আচার এবং ভক্তিময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হল এবারের কাঠাম পুজো। এ বছরের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শতবর্ষে পদার্পণ করল শিলিগুড়ির এই ঐতিহাসিক দুর্গাপুজো।
শহরের প্রাচীনতম দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম মিত্র সম্মিলনীর এই পুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, শিলিগুড়ির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘ একশো বছরের পথচলায় এই পুজো বহু প্রজন্মের আবেগ, স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে। তাই প্রতি বছরই এই পুজোকে ঘিরে শহরবাসীর, বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে আলাদা উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, মিত্র সম্মিলনীর দুর্গাপুজো মানেই তাঁদের ছোটবেলার স্মৃতি, পারিবারিক মিলন এবং এক অন্যরকম নস্টালজিয়া।
রথযাত্রার দিন অনুষ্ঠিত কাঠাম পুজোয় শহরের বহু প্রবীণ নাগরিক, বিশিষ্ট ব্যক্তি, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এবং ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেবী দুর্গার কাঠামোর পূজার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল প্রতিমা নির্মাণের শুভ সূচনা। উপস্থিত সকলে আগামী দুর্গোৎসবের সফলতা এবং সকলের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।
মিত্র সম্মিলনীর দুর্গাপুজো বরাবরই তার ঐতিহ্য, শৈল্পিক ভাবনা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বিশেষ পরিচিত। মহালয়ার দিন থেকে শুরু হয়ে দুর্গাপুজোর চারটি দিনজুড়ে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সঙ্গীত পরিবেশনা, আলোচনা সভা এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে উৎসব উদযাপন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
তবে শতবর্ষ উপলক্ষে এবারের আয়োজনে থাকছে একাধিক বিশেষ আকর্ষণ। গত একশো বছরের ইতিহাস, স্মৃতি, ছবি, তথ্য এবং প্রবীণ সদস্যদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত হবে একটি বিশেষ স্মারক ম্যাগাজিন। পাশাপাশি আয়োজন করা হবে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার, যেখানে তুলে ধরা হবে মিত্র সম্মিলনীর শতবর্ষের ঐতিহ্য, শিলিগুড়ির সাংস্কৃতিক বিবর্তন এবং দুর্গাপুজোর দীর্ঘ ইতিহাস। এই শোভাযাত্রায় শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, শতবর্ষের এই মাইলফলক শুধু একটি পুজোর নয়, শিলিগুড়ির সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই এবারের আয়োজনকে স্মরণীয় করে তুলতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে শতবর্ষের মিত্র সম্মিলনীর দুর্গাপুজো শহরবাসীর কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

