শিলিগুড়ি, ২৬ জুলাই:
শিলিগুড়ি শহরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের পর এবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও উচ্ছেদের নোটিশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি এলাকায় প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবার গত ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের হাতে উচ্ছেদের নোটিশ তুলে দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই গোটা এলাকায় উদ্বেগ, আতঙ্ক এবং ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু পরিবারই জানিয়েছেন, এই নোটিশ তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
বাসিন্দাদের দাবি, তাঁরা কেউ সাম্প্রতিক সময়ে এখানে এসে বসবাস শুরু করেননি। বরং কয়েক প্রজন্ম ধরে এই এলাকাতেই তাঁদের বসবাস। তাঁদের অধিকাংশই শিলিগুড়ি শহরের বৈধ ভোটার। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পুরনিগমের হোল্ডিং ট্যাক্স, বিদ্যুৎ বিল, পানীয় জলের বিল-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার নির্ধারিত অর্থ নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন। সরকারি নথিপত্রে তাঁদের নাম রয়েছে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পরিষেবাও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পেয়ে আসছেন।
এই পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এত বছর ধরে সমস্ত সরকারি নিয়ম মেনে বসবাস এবং কর প্রদান করার পরও কীভাবে তাঁদের উচ্ছেদের মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, যদি তাঁরা অবৈধভাবে বসবাসকারী হতেন, তাহলে এত বছর ধরে সরকারি সংস্থাগুলি কীভাবে তাঁদের কাছ থেকে কর ও পরিষেবা বাবদ অর্থ গ্রহণ করেছে? সেই কারণেই তাঁরা প্রশাসনের এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এলাকাবাসীদের জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ তারিখ তাঁদের শুনানির (হিয়ারিং) জন্য ডাকা হয়েছে। ওই শুনানিতে নিজেদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রশাসনের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলির স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাসিন্দাদের আরও আশঙ্কা, যদি শুনানির পরও উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, তাহলে শতাধিক পরিবার কার্যত মাথার উপর থেকে ছাদ হারানোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। এতে বহু শিশু, প্রবীণ এবং নিম্ন আয়ের পরিবার চরম সংকটে পড়বে। দীর্ঘদিনের বাসস্থান ছেড়ে কোথায় যাবেন, কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করবেন— সেই প্রশ্নের উত্তর এখন তাঁদের কাছে নেই।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘ ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাসকারী এবং নিয়মিত সরকারি কর প্রদানকারী পরিবারগুলির মানবিক দিক বিবেচনা করে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হোক। এখন আগামী ৩১ তারিখের শুনানির পর প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক পরিবার।

