শিলিগুড়ি ,২৩ অক্টোবর
শিলিগুড়ির ঐতিহ্যবাহী টাউন স্টেশন। দীর্ঘদিন ধরে এই স্টেশনে দূরদূরান্ত থেকে এসে জড়ো হন ঢাকি ও বাদকেরা। পুজোর মরশুমে এখান থেকেই শহর ও আশপাশের বিভিন্ন মণ্ডপে ঢাক বাজাতে ছড়িয়ে পড়েন তাঁরা। প্রায় একশো বছরের এই যাতায়াতের কারণে টাউন স্টেশনের সঙ্গে ঢাকি বাদকদের সম্পর্কও যেন আজ হেরিটেজেরই অংশ হয়ে উঠেছে।
এই ঢাকি বাদকদের একটা বড় অংশই আসেন মালদা থেকে। কিন্তু এবছর দুর্গোৎসবের ঠিক আগে মালদায় বন্যায় বিপর্যস্ত হয় বহু পরিবার। সর্বস্ব হারিয়ে কার্যত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন অনেক ঢাকি বাদক ও তাঁদের পরিবার। সেই দুর্দশার কথা মাথায় রেখেই এবার তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।
ঢাকি বাদকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী। তাঁদের বাড়িতে থাকা সন্তানদের কথাও মাথায় রেখে দেওয়া হয় নতুন বস্ত্র ও খাবার। ছোট্ট এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিপর্যস্ত পরিবারগুলির মুখে সামান্য হলেও হাসি ফোটানোর চেষ্টা করা হয়।
সমাজসেবী ঋতিকা পাল জানান, বন্যার সময় তাঁরা মালদায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে নিজেদের চোখে দেখেছেন মানুষের দুর্দশার ছবি। পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে শোকাহত হওয়ার পাশাপাশি বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ঢাকি বাদকদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ী রাজ বসুও। তাঁর কথায়, টাউন স্টেশন যেমন হেরিটেজের তকমা অর্জন করেছে, তেমনই প্রায় ১০০ বছর ধরে এই স্টেশনে এসে বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে ঢাক বাজাতে যাওয়া ঢাকি বাদকরাও এই ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রাজ বসুর বক্তব্য, ঢাকি ছাড়া দুর্গোৎসব যেমন অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তেমনই এই ঢাকি বাদকদের ছাড়া টাউন স্টেশনের এই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যও পূর্ণতা পায় না। তাই তাঁদেরও হেরিটেজের স্বীকৃতির আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলে দরবার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠান ছোট পরিসরে হলেও ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে এমন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রেলের সঙ্গে কথা বলে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনেই বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করার চিন্তাভাবনাও চলছে। হেরিটেজ স্টেশন আর শতবর্ষের ঢাকিদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার সেই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার।

