ঘুঘুমারী, ৭ জুন:
আবাস যোজনার নামে কাটমানি! প্রতিবন্ধীর কাছ থেকেও টাকা আদায়ের অভিযোগে উত্তাল ঘুঘুমারি, পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি তোলার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল কোচবিহার-১ ব্লকের ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ভেলাডাঙ্গা গ্রাম। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
অভিযোগ, গরিব ও অসহায় মানুষের সরকারি প্রকল্পের টাকাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৬৯ ও ১৭০ নম্বর বুথ এলাকার একাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের তির ঘুঘুমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সাহিদা বিবি, হাসানুর রহমান এবং অঞ্চল সহ-সভাপতি জুলফিকার আলি (ভোলা)-র দিকে।
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে অঞ্চল সহ-সভাপতি জুলফিকার আলির বিরুদ্ধে, এক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ঘিরে। গ্রামবাসীদের দাবি, যার দুই হাত কার্যত অচল, যিনি ঠিকভাবে কথাও বলতে পারেন না, সেই অসহায় মানুষের কাছ থেকেও নাকি ঘরের জন্য ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা এলাকা।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, “গরিব মানুষের মাথার উপর একটা ছাদ পাওয়ার স্বপ্নকে পুঁজি করে টাকা তোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ লুট করা হয়েছে। এখন সবাই তাদের টাকা ফেরত চাইছে।”
ঘটনার জেরে কার্যত চাপে পড়ে পঞ্চায়েত সদস্য সাহিদা বিবি দাবি করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও টাকা নেননি। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের বোঝে পাঁচজনের একটি টিম ছিল, তারাই টাকা তুলেছে।” তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতেই তিনি জানান, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এবং যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
তবে গ্রামবাসীদের প্রশ্ন, যদি কোনও টাকা নেওয়াই না হয়ে থাকে, তাহলে ফেরত দেওয়ার কথা কেন বলা হচ্ছে? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে এলাকাজুড়ে।
ঘুঘুমারির ভেলাডাঙ্গায় এখন একটাই দাবি— “কাটমানির টাকা ফেরত চাই, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই।”
সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।

