কোচবিহার, ৯ জুন:
দীর্ঘদিন পর কোচবিহার পৌরসভায় এসে বিশেষ বৈঠক করলেন প্রাক্তন পৌরপতি তথা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। পৌরপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তাঁকে আর পৌরসভার দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা যায়নি। ফলে তাঁর এই উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট কৌতূহল তৈরি হয়।
মঙ্গলবার কোচবিহার পৌরসভায় পৌঁছে প্রথমে পৌরসভার কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এরপর বর্তমান পৌরপতি, কাউন্সিলর এবং পৌরসভার অন্যান্য প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম, আর্থিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে পৌরসভার আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও প্রশাসনিক কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে কাউন্সিলরদের মধ্যে যে মতভেদ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছিল, সেই বিষয়গুলিই এদিনের বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য ছিল। বৈঠক শেষে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে।
বর্তমান পৌরপতি জানান, বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের গতি বজায় রাখা এবং নাগরিক পরিষেবা আরও কার্যকর করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়েছে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ভূষণ সিংহ বলেন, “পৌরসভার বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আমাদের কিছু প্রশ্ন ছিল। আজকের বৈঠকে সেই বিষয়গুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া গিয়েছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছিল, তা সফলভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।”
বৈঠক শেষে প্রাক্তন পৌরপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, পৌরসভার মূল দায়িত্ব হল নাগরিকদের প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া পূরণ করা। সেই লক্ষ্য সফল করতে হলে পৌরসভার আর্থিক ভিত্তি মজবুত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়নমূলক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জনপরিষেবা সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য তহবিলের যথাযথ ব্যবহার ও পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নাগরিক স্বার্থের প্রশ্নে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পৌরসভার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে পৌরসভার কাজ আরও গতিশীল করা সম্ভব বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন পর রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পৌরসভায় উপস্থিতি এবং কাউন্সিলরদের সঙ্গে এই বৈঠককে ঘিরে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, পৌরসভার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এখন আগামী দিনে পৌরসভার কাজকর্মে তার কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে নাগরিকদের।

