শিলিগুড়ি, ১৪ জুন:
সাধারণ মানুষের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তাঁর উদ্যোগে রবিবার শিলিগুড়ির ওয়াইএমএ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জনসংযোগমূলক কর্মসূচি ‘সরাসরি শঙ্কর’। সকাল থেকেই কর্মসূচিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন বয়স ও পেশার বহু মানুষ নিজেদের নানান সমস্যা, অভিযোগ ও দাবি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।
শুধু শিলিগুড়ি নয়, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং রাজ্যের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং তাঁদের সমস্যার কথা প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
এদিন মঞ্চে বসে একে একে মানুষের বক্তব্য শোনেন শঙ্কর ঘোষ। উপস্থিতদের অভিযোগ ও আবেদন মনোযোগ সহকারে শুনে তিনি নিজেই বিভিন্ন বিষয় নোট করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়গুলির দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন বলেও জানা যায়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “বিগত সরকারের আমলে জমে থাকা অসংখ্য অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দুর্নীতির সমস্যার সমাধান একদিনে করা সম্ভব নয়। তবে আমরা ধাপে ধাপে প্রতিটি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষের স্বার্থই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোথাও তোলাবাজি, দুর্নীতি বা সাধারণ মানুষের হয়রানির ঘটনা ঘটে, তাহলে মানুষ সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবার ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছিল। প্রথম কর্মসূচিতেই সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। এরপর থেকে মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ ক্রমশ বাড়তে থাকে। সেই কারণেই প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে এই কর্মসূচি আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রবিবারের অনুষ্ঠানে শিক্ষক, পুলিশ কর্মী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী-সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে প্রথম ৫০ জন নিবন্ধিত ব্যক্তিকে সরাসরি মন্ত্রীর সামনে নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়াও লিখিত আকারে অভিযোগ জমা নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
এদিনের কর্মসূচিতে জমি সংক্রান্ত সমস্যাই সবচেয়ে বেশি উঠে আসে বলে জানা গেছে। জমির মালিকানা, মিউটেশন, রেকর্ড সংশোধন, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত জমি-বিবাদ এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে বহু মানুষ অভিযোগ জানান। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
উপস্থিত সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। ফলে নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরতে পেরে তাঁরা সন্তুষ্ট। অনেকেই আশা প্রকাশ করেন যে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির দূরত্ব কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচি ইতিমধ্যেই বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জনসংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধানে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ফলে আগামী দিনেও এই কর্মসূচিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

