কোচবিহার, ৩০ জুন:
শহরের রাস্তায় যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় নিয়মশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ অভিযান চালাল কোচবিহার সদর ট্রাফিক পুলিশ। এই অভিযানে টোটো, ই-রিকশা ও অটোর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নিয়মবহির্ভূতভাবে লাগানো অতিরিক্ত সিট খুলে প্রায় ৭০টি গাড়ি থেকে তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চালকদের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় টোটো, ই-রিকশা ও অটোতে অতিরিক্ত সিট বসিয়ে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি যাত্রী বহনের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছিল। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সদর ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযানের সময় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত এলাকায় টোটো, ই-রিকশা এবং অটো থামিয়ে তাদের নথিপত্র ও গাড়ির গঠন পরীক্ষা করা হয়। যেসব গাড়িতে অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত সিট লাগানো ছিল, সেগুলি খুলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মোট প্রায় ৭০টি গাড়ি থেকে এই অতিরিক্ত সিট সরানো হয়েছে।
শুধু অতিরিক্ত সিট খুলে দেওয়াই নয়, চালকদের নিরাপত্তা সম্পর্কেও সচেতন করা হয়। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চালকের ডানদিকে লোহার সুরক্ষা রড (Safety Rod) লাগানো বাধ্যতামূলক। এই রড থাকলে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে। যেসব গাড়িতে এই ব্যবস্থা ছিল না, সেসব চালকদের দ্রুত তা লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন ট্রাফিক কর্মীরা চালকদের উদ্দেশে বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা অনুমোদনহীন পরিবর্তন শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, তা যাত্রীদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। তাই নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সকলকেই নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানানো হয়।
সদর ট্রাফিক পুলিশের এক আধিকারিক জানান, যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রাফিক পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের বহু বাসিন্দা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট বসানোর প্রবণতা বেড়ে গিয়েছিল। প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।

