জলপাইগুড়ি, ১৫ জুন:
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরের অগ্রগতি ও পরিষেবা প্রদানের মান খতিয়ে দেখতে সোমবার জলপাইগুড়ি সফরে এলেন রাজ্যের সমবায় দপ্তরের অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি কৃষ্ণ গুপ্তা। এদিন তিনি জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বিডিও অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করেন এবং পরিষেবা গ্রহণ করতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
শিবিরে পৌঁছে কৃষ্ণ গুপ্তা প্রথমে বিভিন্ন পরিষেবা কাউন্টার ঘুরে দেখেন। সরকারি প্রকল্পগুলির সুবিধা কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, আবেদন গ্রহণ ও পরিষেবা প্রদানের প্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেন তিনি। পাশাপাশি শিবিরে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে মতামতও জানতে চান।
এদিন শিবিরে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা গ্রহণের জন্য সকাল থেকেই মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, পরিষেবা পেতে কতটা সুবিধা হচ্ছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কেমন মিলছে, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি।
পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণ গুপ্তা জানান, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে জলপাইগুড়ি জেলার জনকল্যাণ শিবিরগুলির অবজার্ভার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই জেলার চারটি ব্লকের জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রতিটি শিবিরেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং মানুষ সরকারি পরিষেবা গ্রহণে যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তিনি জানান, এই জনকল্যাণ শিবিরগুলির মাধ্যমে রাজ্যের ১৯টি দপ্তরের অধীনে থাকা মোট ৫৪টি প্রকল্প ও পরিষেবা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৫০টি প্রকল্প ও সরকারি সুবিধা সম্পর্কে মানুষকে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হচ্ছে। ফলে এক জায়গায় এসে নাগরিকরা বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারছেন এবং প্রয়োজনীয় আবেদনও করতে পারছেন।
অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারির মতে, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজ করে তোলাই এই শিবিরগুলির মূল উদ্দেশ্য। মানুষের অংশগ্রহণ এবং ইতিবাচক সাড়া দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিনের পরিদর্শন কর্মসূচিতে কৃষ্ণ গুপ্তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক এবং সদর মহকুমা শাসক-সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁরা শিবিরের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন এবং পরিষেবা প্রদানের কাজ তদারকি করেন।
জনকল্যাণ শিবিরকে কেন্দ্র করে এদিন বিডিও অফিস চত্বরে উৎসাহ ও ব্যস্ততার পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। প্রশাসনের দাবি, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

