শীতলকুচি, ৭ জুলাই:
শীতলকুচিতে সিপিআইএম কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠল। নিহত সিপিআইএম কর্মী মন্টু মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সিপিআইএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার শীতলকুচি বাজার এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত সিপিআইএম কর্মী মন্টু মিয়ার বাড়ি শীতলকুচি ব্লকের গোলেনাওহাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। গত দুদিন আগে শীতলকুচির খুঁটামারা নদী থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
মঙ্গলবার নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাঁদের সমবেদনা জানাতে শীতলকুচিতে যান সিপিআইএমের রাজ্য নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী। তিনি পরিবারের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান বলে দলীয় সূত্রে খবর।
পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে শীতলকুচি বাজার এলাকা দিয়ে ফেরার সময় হঠাৎই একদল বিক্ষোভকারী তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা মীনাক্ষী মুখার্জীর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকেন। যদিও এই ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত শীতলকুচি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মীনাক্ষী মুখার্জীকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
এদিকে, ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে সিপিআইএম। তাদের অভিযোগ, সেই কারণেই ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এবং গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সিপিআইএমের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিহত সিপিআইএম কর্মীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মীনাক্ষী মুখার্জীকে ঘিরে বিক্ষোভ এবং ডিম নিক্ষেপের ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শীতলকুচির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

