শিলিগুড়ি, ২৯ আগস্ট
আদালতের নির্দেশে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লি এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে হঠাৎ শুরু হওয়া এক কঠোর অভিযানকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা শহরে। যে বাড়িতে প্রায় তিন দশক ধরে একটি পরিবার শান্তিতে বসবাস করে আসছিল, সেই বাড়ির ছাদসহ একাধিক অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে এক চরম রহস্য ও আইনি জটিলতা। বহু বছর আগের কেনা সম্পত্তিতে হঠাৎ এমন বিপদের ঘনঘটা কেন নেমে এল?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঞ্জন সরকারের বাবা ১৯৯৮ সালে শিলিগুড়ির সুভাষপল্লিতে ওই বাড়িটি কিনেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে রঞ্জন বাবু, তাঁর দুই ভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ওই ঠিকানাতেই বসবাস করে আসছেন। কিন্তু কে জানত, দীর্ঘদিনের এই বসতি হঠাৎ করেই এক আইনি বেড়াজালে জড়িয়ে পড়বে? বেশ কয়েক বছর আগে বাড়িটির নির্মাণশৈলী এবং আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আর সেই সূত্র ধরেই জল গড়ায় সুদূর কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি আদালতের তরফে নির্দেশ আসে, ওই বাড়ির সমস্ত অবৈধ অংশ ধাপে ধাপে ভেঙে ফেলতে হবে। আর সেই নির্দেশকে হাতিয়ার করেই বৃহস্পতিবার সকাল সকাল হানা দেয় শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিশেষ দল। চোখের সামনে নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা বা বংশপরম্পরায় পাওয়া ছাদের কিছু অংশ ভেঙে পড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পুরনিগমের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ মেনেই আগামী দিনে বাড়ির বাকি অবৈধ অংশগুলিও ভেঙে দেওয়া হতে পারে।
তবে এই আকস্মিক পদক্ষেপে ক্ষোভ ও হতাশার পাহাড় জমেছে পরিবারের মনে। বাড়ির মালিকপক্ষের সাফ দাবি, ১৯৯৮ সালে যখন বাড়িটি কেনা হয়েছিল, তখন এর নির্মাণগত বা আইনি জটিলতা সম্পর্কে তাঁদের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। তাছাড়া, বুলডোজার চালানোর মাত্র দু’দিন আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পুরনিগমের কাজের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবারটি। আইনি নির্দেশ বনাম বহু বছরের পুরনো অধিকার—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে এখন সুভাষপল্লির ওই বাড়ির ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

