আলিপুরদুয়ার, ২৩ জুন:
আলিপুরদুয়ার পৌরসভার সাফাই কর্মীদের বিক্ষোভে মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। অভিযোগ, টানা দু’মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন তাঁরা। বকেয়া বেতন অবিলম্বে মেটানো এবং বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এদিন পথ অবরোধে সামিল হন পৌরসভার সাফাই কর্মীরা। তাঁদের আন্দোলনের জেরে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারী কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় তাঁদের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানান তাঁরা। অনেকেরই বাজার ও মুদিখানার দোকানে ধার বেড়ে গিয়েছে। সেই কারণে প্রতিনিয়ত দোকানদারদের চাপ ও অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সাফাই কর্মীরা।
কর্মীদের আরও অভিযোগ, শুধু বেতন বকেয়াই নয়, বর্তমানে এক মাসের বেতনও একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে না। মাসিক বেতনকে দুই কিস্তিতে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সংসারের বাজেট পরিকল্পনা করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
এই অবস্থায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে মঙ্গলবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করেন সাফাই কর্মীরা। তাঁদের সাফ কথা, বকেয়া বেতন দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া এবং উপযুক্ত বেতন বৃদ্ধি না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
পথ অবরোধের কারণে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পাশাপাশি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পুলিশের আশ্বাসের পর প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধ তুলে নেন সাফাই কর্মীরা। তবে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সাফাই কর্মীদের এই আন্দোলনের ফলে আবারও সামনে এল পৌরসভার অস্থায়ী ও নিম্নবেতনভোগী কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্ব পালন করলেও ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং সময়মতো বেতন না পাওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তাই দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

