জলপাইগুড়ি, ৮ জুলাই:
ময়নাগুড়িতে জেলা পরিষদের ১৩টি বাণিজ্যিক স্টল বণ্টনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে সামিল হল ময়নাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতি। বুধবার সমিতির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মনের সঙ্গে দেখা করে স্টল বণ্টনের বর্তমান প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ ও নিয়ম মেনে বণ্টনের দাবি জানায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ব্যবসায়ী সমিতির অভিযোগ, স্টল বণ্টনের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। ওপেন টেন্ডারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিকেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সমিতির দাবি, একজন ব্যক্তি একটি স্টলের বেশি বরাদ্দ পেতে পারেন না। পাশাপাশি আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে নয়, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে এলাকার সমস্ত যোগ্য ব্যবসায়ীকে সমান সুযোগ দিতে হবে।
ময়নাগুড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুনীল খড়িয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী স্টলের আশায় রয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বণ্টন প্রক্রিয়ায় তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, একজন ব্যক্তি একাধিক স্টল পাওয়ায় অনেক প্রকৃত দাবিদার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সমিতির সম্পাদক সুমিত সাহার অভিযোগ, ওপেন টেন্ডারের নামে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তাতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। তাই বর্তমান স্টল বণ্টন বাতিল করে নতুন করে সকল ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় বণ্টনের দাবি জানান তিনি।
এদিকে ব্যবসায়ী খোকা রায় জানান, প্রশাসন যদি বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা না করে এবং স্টল বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে ব্যবসায়ী সমিতি বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মন জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই ১৩টি স্টলের মধ্যে ৮টি স্টল বণ্টন করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়েছে। নতুন করে স্টল বণ্টনের কোনও সরকারি বিধান বা সুযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
স্টল বণ্টনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ ও প্রশাসনের আশ্বাসের জেরে আগামী দিনে বিষয়টি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে ময়নাগুড়ির ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের।

