শিলিগুড়ি, ৭ জুন:
ইন্দো-নেপাল সীমান্তে জাল ইমিগ্রেশন ‘এক্সিট স্ট্যাম্প’ চক্রের পর্দাফাঁস এবং তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী পাচার তদন্তের যোগসূত্র—দুটি ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিলিগুড়ি মহকুমা এলাকায়।
খড়িবাড়ির পানিট্যাঙ্কি সংলগ্ন ইন্দো-নেপাল সীমান্তে সম্প্রতি এসএসবির জওয়ানরা দুই থাই মহিলাকে আটক করে, যাদের পাসপোর্টে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের ভুয়ো ‘এক্সিট স্ট্যাম্প’ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি চারচাকা গাড়িতে করে তারা ভারত থেকে নেপালে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সীমান্তে পৌঁছয়। পাসপোর্টে থাকা স্ট্যাম্প দেখে সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে এসএসবি। সেই সময় সুযোগ বুঝে গাড়ির চালক পালিয়ে গেলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন দফতরের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, ওই দুই নামের কোনও এক্সিট স্ট্যাম্প জারি করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদে দুই মহিলা ভুয়ো স্ট্যাম্প ব্যবহারের কথা স্বীকার করে। এসএসবি সূত্রে জানা গিয়েছে, পিমচানোক কেটলা ও চিনতারা বুদ্ধাফং নামে ওই দুই থাই নাগরিক গত বছরের জুলাই মাস থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা নিয়ে ভারতে অবস্থান করছিল। দিল্লি থেকে বাগডোগরা হয়ে নেপালে পালানোর উদ্দেশ্যেই তারা এই জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করছিল বলে জানিয়েছে।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিলিগুড়ির বাসিন্দা কুলদীপ শর্মা নামে এক গাড়িচালককেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পানিট্যাঙ্কি সীমান্ত হয়ে নেপালের ভদ্রপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক জানিয়েছে, বাগডোগরা সংলগ্ন একটি স্থানে গাড়িতে থাকা এক যুবক নেমে যায় এবং সেখান থেকেই পাসপোর্টে জাল সিল মারা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এসএসবির অভিযোগের ভিত্তিতে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ তিনজনকেই গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নিরাপত্তা সিল জাল করা ও অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হবে। গোটা জাল ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা বিভাগ।
এদিকে, থাইল্যান্ড-যোগ থাকা একটি আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক রবি দেওলিয়াকেও শনিবার শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। তিনি দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা এবং সম্প্রতি এসআই পদ থেকে অবসর নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে, এর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে।”
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নারী পাচার চক্রের তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে এবং সেই সূত্র ধরেই প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ ও অন্যান্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুটি ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও বড় চক্রের হদিশ মিলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

