শিলিগুড়ি, ১৯ জুলাই:
ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে শিলিগুড়িতে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্রীড়া আসরের শেষ লড়াইকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের এক ছাদের তলায় আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রবিবার গভীর রাতে বাঘাযতীন পার্কে প্রায় ৪০ ফুট × ১০ ফুটের বিশাল LED স্ক্রিনে ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি দেখানোর আয়োজন করা হয়েছে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার দর্শকের সমাগমের আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদিও ম্যাচ শুরু হবে রাত সাড়ে ১২টায়, তবে অনুষ্ঠান শুরু হবে রাত ১০টা থেকেই। দর্শকদের জন্য আগে থেকেই নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হবে। গোটা মাঠ বিশেষ আলোকসজ্জা, ফ্লেক্স, ফুটবল-থিমের সাজসজ্জা এবং জাতীয় পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হবে। মাঠে বসে খেলা উপভোগ করার জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ থাকছে প্রায় ৪০ ফুট × ১০ ফুটের একটি বিশাল LED স্ক্রিন, যেখানে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। পাশাপাশি দর্শকদের ভিড় বেশি হলে মাঠের বাইরে থেকেও যাতে কেউ খেলা দেখতে বঞ্চিত না হন, সেই কারণে অতিরিক্ত LED স্ক্রিন বসানোরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, শিলিগুড়িতে এর আগে এত বড় পরিসরে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার আয়োজন খুব কমই হয়েছে।
বিজেপির ৭ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সন্তু দাস বলেন,
“ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি বাঙালির আবেগ। একা বাড়িতে বসে খেলা দেখার চেয়ে হাজার মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে বসে বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করার আনন্দ সম্পূর্ণ আলাদা। সেই কারণেই আমরা শিলিগুড়ির সমস্ত ফুটবলপ্রেমীদের বাঘাযতীন পার্কে এসে এই ঐতিহাসিক ম্যাচ উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, গোটা শহর সেদিন ফুটবলের উন্মাদনায় রাত জাগবে।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসর শুধু বিনোদন নয়, মানুষের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহও বাড়িয়ে তোলে। সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজেপির জেলা সম্পাদক রাজু সিনহা বলেন,
“বাংলার মানুষের সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক বহুদিনের। ফুটবলের প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলতেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতে বাংলার মাটি থেকে আবারও চুনী গোস্বামী, পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত ভট্টাচার্য কিংবা ভাস্কর গাঙ্গুলীর মতো আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার উঠে আসুক। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখেই ফুটবলের এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে রাজু সিনহা জানান, পুরো বিষয়টি আগেই পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরাও মোতায়েন থাকবেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্যও আলাদা পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আবহাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আয়োজকদের আশা, ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহে কোনও ভাটা পড়বে না। তাঁদের কথায়, “বৃষ্টি হলেও ফুটবলের প্রতি বাঙালির ভালোবাসা থেমে থাকবে না। প্রয়োজন হলে ছাতা নিয়েই মানুষ মাঠে এসে বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখবে।”
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এই অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, ক্রীড়াপ্রেমী, সমাজের নানা স্তরের মানুষ এবং কয়েকজন মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের সময় ও সুযোগ হলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
শিলিগুড়ির ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি ম্যাচ দেখার অনুষ্ঠান নয়, বরং বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার একটি বিশেষ উপলক্ষ। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতিতে বাঘাযতীন পার্ক রবিবার গভীর রাতে ফুটবল উন্মাদনার এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হবে বলেই আশাবাদী উদ্যোক্তারা।

