বক্সীরহাট, কোচবিহার, ২১ জুন:
ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস ধরে এলাকায় কার্যত ‘নিখোঁজ’ ছিলেন এক তৃণমূল নেতা। অবশেষে রবিবার তাঁর সন্ধান মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, বাড়ির কাছেই একটি পানীয় জলের পাম্প হাউসে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে খুঁজে বের করে উত্তেজিত জনতা টেনে-হিঁচড়ে বাইরে এনে গণধোলাই দেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের মহিষকুচি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বাকলা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভোট-পরবর্তী অশান্তি ও সন্ত্রাস সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই তৃণমূল নেতার নাম সামনে আসে। এরপর থেকেই তিনি প্রকাশ্যে দেখা দিচ্ছিলেন না বলে দাবি স্থানীয়দের। গত দেড় মাস ধরে তাঁর খোঁজ না মেলায় এলাকায় নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কেউ বলছিলেন তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, আবার কেউ দাবি করছিলেন তিনি গোপনে কোথাও আত্মগোপন করে রয়েছেন।
রবিবার সকালে এলাকার কিছু বাসিন্দা তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর বাড়ির সংলগ্ন টাটেরকুঠি এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি (পিএইচই) দফতরের একটি পানীয় জলের পাম্প হাউসের ভিতরে তাঁকে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযুক্ত নেতাকে দেখতে পেয়েই উত্তেজিত জনতার একাংশ পাম্প হাউসের ভিতরে ঢুকে পড়ে। এরপর তাঁকে জোর করে বাইরে বের করে আনা হয়। অভিযোগ, বাইরে নিয়ে আসার পর তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষুব্ধ মানুষজন মারধর শুরু করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত বক্সীরহাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ এসে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই নেতাকে উদ্ধার করে। সে সময় তিনি গুরুতর জখম অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত বক্সীরহাট ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি যাতে আরও অশান্ত না হয়ে ওঠে, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তি পাম্প হাউসে ছিলেন, কারা তাঁকে মারধর করেছেন এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসীর একাংশ। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
বর্তমানে আহত তৃণমূল নেতার শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং পুলিশ গোটা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।

