আলিপুরদুয়ার, ২০ জুলাই:
শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার উপলক্ষে আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের ঐতিহ্যবাহী জটেশ্বর শিব মন্দিরে ভোর থেকেই দেখা গেল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। মহাদেবের আরাধনায় শামিল হতে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকেও হাজার হাজার পুণ্যার্থী মন্দিরে উপস্থিত হন। ‘বাবা জটেশ্বর’-এর মাথায় জল ও দুধ নিবেদন করে বিশেষ পুজো দেন ভক্তরা। ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয়দের মতে, প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই শিব মন্দিরে প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবারই বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়। তবে শ্রাবণের প্রথম সোমবার হওয়ায় এদিনের ভিড় ছিল অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। মহাদেবের আশীর্বাদ লাভের আশায় নারী, পুরুষ, শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষ মন্দিরে এসে পুজো অর্চনায় অংশ নেন। অনেকেই উপবাস রেখে জলাভিষেক ও বিশেষ পূজা সম্পন্ন করেন।
ভক্তদের বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মন্দির চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়। যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং ভক্তরা নির্বিঘ্নে পুজো দিতে পারেন, সেদিকে নজর রাখেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা।
শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানই নয়, এদিন সামাজিক উদ্যোগও নজর কেড়েছে। জটেশ্বর শিব মন্দির চত্বরে জটেশ্বর ভোলেনাথ ব্যান্ড পার্টি-র উদ্যোগে শিবভক্তদের জন্য আয়োজন করা হয় এক বিশাল ভাণ্ডারার। সকাল থেকেই ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ শুরু হয়। মন্দিরে পুজো দিতে আসা হাজার হাজার মানুষ এই ভাণ্ডারায় অংশ নিয়ে প্রসাদ গ্রহণ করেন।
জটেশ্বর ভোলেনাথ ব্যান্ড পার্টির কর্ণধার জয়দ্বীপ হাজরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে এই ভাণ্ডারার আয়োজন করেছেন। তিনি বলেন, “এই বছর প্রায় আড়াই হাজার ভক্ত ও পুণ্যার্থীর জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের সংগঠনের সদস্যরাই সমস্ত প্রস্তুতি এবং পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করেছেন। শিবভক্তদের সেবা করতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি।”
এদিনের ভাণ্ডারায় ভক্তদের জন্য পরিবেশন করা হয় লুচি, সবজি তরকারি এবং সুস্বাদু হালুয়া। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বহু পুণ্যার্থী প্রসাদ গ্রহণ করেন। ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ও ভক্তিভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।
মন্দিরে আসা বহু পুণ্যার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জটেশ্বর ভোলেনাথ ব্যান্ড পার্টির এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই ধরনের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ ভক্তদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করে। অনেকে আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলিতেও এই উদ্যোগ আরও বৃহৎ পরিসরে অব্যাহত থাকবে।
শ্রাবণের প্রথম সোমবারে জটেশ্বর শিব মন্দিরে ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা এবং সামাজিক সেবার এক অনন্য মেলবন্ধন প্রত্যক্ষ করল ফালাকাটা। সারাদিন ধরেই “হর হর মহাদেব” ধ্বনিতে মুখরিত ছিল গোটা মন্দির চত্বর।

