জলপাইগুড়ি,৬ ডিসেম্বর :
তিস্তা সেতু লাগোয়া জাতীয় সড়কের ধারে পরপর তিনটি অজগর উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় যেভাবে একের পর এক বিশাল আকৃতির অজগর উদ্ধার হচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তায় প্রশাসন ও পরিবেশবিদরা।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। তিস্তা সেতুর কাছাকাছি জাতীয় সড়কের ধারে বিবেকানন্দ পল্লি এলাকায় একটি মৃত অজগর সাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় পরিবেশকর্মীদের। তাঁরা এসে বিশাল দেহের সাপটি উদ্ধার করেন। প্রাথমিক অনুমান, গাড়ির ধাক্কায় সাপটির মৃত্যু হয়েছে। নদীপাড়ের জঙ্গল থেকে জনবসতিতে ঢুকে পড়ার সময় জাতীয় সড়কে উঠে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা পেরোতেই আরও দুটি জীবিত অজগর উদ্ধার হওয়ায় পরিস্থিতি ঘোরতর উদ্বেগজনক রূপ নেয়। স্থানীয়রা প্রথমে জাতীয় সড়ক লাগোয়া ঝোপের মধ্যে এক বিশাল সাপ দেখতে পান। পরিবেশকর্মীরা এসে সেটিকে ১০ ফুট লম্বা বলে শনাক্ত করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও একটি প্রায় ১২ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার হয় অন্য একটি জায়গা থেকে। দু’টি সাপকেই পরবর্তীতে বনদপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত অক্টোবর মাসে তিস্তায় তৈরি হওয়া ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির প্রভাবই এখন দেখা যাচ্ছে। বন্যার জলে তিস্তার ধারে বিস্তীর্ণ জঙ্গল নিমজ্জিত হয়েছিল। সেই সুযোগে বহু অজগর সাপ ও অন্যান্য সরীসৃপ নিজেদের আবাসভূমি থেকে ভেসে মানুষের বসতি এলাকায় চলে এসেছে বলে অনুমান। তাদের অনেকেই আশেপাশের ঝোপঝাড়, খোলা মাঠ বা পরিত্যক্ত বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে।
পরিবেশকর্মীরা জানিয়েছেন, “এই তিনটি অজগর উদ্ধার হলো ঠিকই, কিন্তু আরও কত সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে, তা কেউ বলতে পারছে না। মানুষের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত সার্চ অপারেশন প্রয়োজন।” তাঁদের পক্ষ থেকে বনদপ্তরের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সার্চ অপারেশন চালানোর আবেদন জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভরসা—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রশাসন ও বনদপ্তর যৌথভাবে এলাকায় নজরদারি বাড়াবে। কারণ তিস্তাপারের মানুষ এখনও বন্যার ক্ষত ভুলতে পারেননি। তার ওপর আবার বিশাল আকারের অজগর সাপের পরপর উদ্ধার-অভিযান তাদের নতুন করে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অজগর সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। তবে খাবারের সন্ধানে বা আশ্রয়ের খোঁজে তারা লোকালয়ে ঢুকে পড়লে হঠাৎ সামনে পড়লে বিপদ হতে পারে। তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বনদপ্তর, প্রশাসন ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, এখন তাকিয়ে সেই দিকেই জলপাইগুড়ির বাসিন্দারা।

