আলিপুরদুয়ার, ১৬ জুন:
রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া জনকল্যাণ শিবিরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সেই আবহেই মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের মারাখাতা এলাকায় আয়োজিত জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা ফালাকাটা বিধানসভার বিধায়ক দীপক বর্মণ। শিবিরে উপস্থিত হয়ে তিনি বিভিন্ন পরিষেবা কাউন্টার ঘুরে দেখেন, উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই জনকল্যাণ শিবিরে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আবাসন, ভাতা এবং অন্যান্য জনমুখী প্রকল্প সংক্রান্ত আবেদন ও পরিষেবা এক ছাতার নিচে পাওয়ায় মানুষের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন, জনকল্যাণ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য হল সরকারি পরিষেবাকে আরও সহজ ও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তিনি দাবি করেন, এই শিবিরে এসে সাধারণ মানুষ সরাসরি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে আবেদন করতে পারছেন এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিন তিনি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পরিচালিত ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির সঙ্গে বর্তমান ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর তুলনাও করেন। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, দুয়ারে সরকার শিবিরে প্রচার ও দেখনদারির পরিমাণ বেশি থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে পরিষেবা প্রদানের ঘাটতি ছিল। তার বিপরীতে বর্তমান জনকল্যাণ শিবিরে সাধারণ মানুষের কাজের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
দীপক বর্মণ বলেন, “মানুষ এখানে এসে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে আবেদন করতে পারছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনকল্যাণ শিবিরের মূল লক্ষ্যই হল মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করে তোলা।”
শিবিরে উপস্থিত উপভোক্তাদের একাংশও সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিভিন্ন প্রকল্পে আবেদন, নথি যাচাই এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো ছিল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েকদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই জনকল্যাণ শিবির চলবে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যায় এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর এই পরিদর্শনকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং সরকারি পরিষেবার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও এদিন গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

