আলিপুরদুয়ার, ১৪ জুন:
গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ উদ্ধার করল বনদপ্তর। ঘটনায় একটি টোটো আটক করা হলেও চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মাদারিহাট ও ফালাকাটা সংলগ্ন এলাকায়। বনদপ্তর ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং কাঠ পাচার চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি গোপন সূত্রে খবর আসে যে একটি টোটোতে করে অবৈধভাবে সেগুন কাঠ পাচার করা হচ্ছে। কাঠগুলি জটেশ্বর এলাকা থেকে ফালাকাটার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে তথ্য পান বনকর্মীরা। খবর পাওয়ার পরই মাদারিহাট রেঞ্জের বনদপ্তরের একটি বিশেষ দল নজরদারি শুরু করে।
রবিবার বনকর্মীরা সন্দেহভাজন টোটোটির গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন। কিছুক্ষণ পর একটি টোটোকে সন্দেহজনকভাবে ফালাকাটার দিকে যেতে দেখে বনদপ্তরের কর্মীরা তার পিছু নেন। বনকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়েই টোটো চালক দ্রুত গতিতে পালানোর চেষ্টা করে বলে জানা গেছে।
এরপর শুরু হয় ধাওয়া। বনকর্মীরা বেশ কিছু দূর পর্যন্ত টোটোটির পিছু নেন। অবশেষে ফালাকাটা বাগানবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছে টোটো চালক গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যায়। বনকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে টোটোটি আটক করতে সক্ষম হন।
আটক টোটোটি তল্লাশি চালানোর সময় প্রথমে সেটির মধ্যে থাকা কয়েকটি বড় বস্তা দেখতে পান বনকর্মীরা। পরে বস্তাগুলি খুলে দেখা যায়, সেগুলির ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সেগুন কাঠ। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ সিএফটি (কিউবিক ফুট) পরিমাণ সেগুন কাঠ উদ্ধার হয়েছে বলে বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া কাঠগুলির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছেন বনকর্তারা। প্রাথমিক অনুমান, কাঠগুলি অবৈধভাবে কেটে পাচারের উদ্দেশ্যে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে কাঠগুলি কোথা থেকে কাটা হয়েছে এবং এর পেছনে কোনও বড় পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মূল্যবান কাঠ পাচারের ঘটনা রুখতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য মিলেছে। অভিযুক্ত টোটো চালকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এবং তাঁকে ধরতে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
আটক টোটোটি বনদপ্তরের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সেগুন কাঠও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বনজ সম্পদ পাচারের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তাই বনদপ্তরের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, বনাঞ্চল ও মূল্যবান গাছপালা রক্ষার স্বার্থে আরও কড়া নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এই ঘটনায় অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বনদপ্তরের অভিযান আরও জোরদার হবে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তদন্তের মাধ্যমে পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

