আলিপুরদুয়ার, ২৮ আগস্ট
রেলের জমি দখল করে বসবাসকারীদের এবার জায়গা খালি করতেই হবে। আলিপুরদুয়ার জংশন সংলগ্ন রেলের জমিতে গড়ে ওঠা একাধিক কলোনি নিয়ে শুক্রবার কড়া বার্তা দিলেন আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের ডিআরএম দেবেন্দ্র সিং। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রেলের জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশনকে উন্নত মানের করে গড়ে তুলতে এবং নতুন পরিকাঠামো তৈরি করতে আরও জায়গার প্রয়োজন বলে জানান ডিআরএম। তাঁর দাবি, উন্নত মানের রেলওয়ে ট্র্যাক বসানোর পাশাপাশি স্টেশনের সম্প্রসারণ করা হবে। আর সেই কারণেই রেলের জমি দখল করে থাকা বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, জংশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমিতে বেশ কয়েকটি কলোনি গড়ে উঠেছে। প্রায় এক বছর আগে রেলের তরফে সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, এরপরেও জমি খালি করা হয়নি।
গত দু’মাসে একাধিকবার রেলের কর্মী ও আধিকারিকরা ওই কলোনিগুলিতে গিয়ে বাসিন্দাদের জায়গা খালি করে দেওয়ার বিষয়ে জানালেও তাতে কাজ হয়নি বলে দাবি রেল কর্তৃপক্ষের।
এদিন ডিআরএম দেবেন্দ্র সিং বলেন, আর কোনও কথা শোনা হবে না, এবার উচ্ছেদ অভিযান চলবে। আলিপুরদুয়ার জংশনকে বড় করা হচ্ছে এবং উন্নত মানের রেলওয়ে ট্র্যাক বসিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নতি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির প্রসঙ্গেও রেলের জমি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে ডিআরএম জানান, একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির জন্য কমপক্ষে ৩০ একর জমির প্রয়োজন। আলিপুরদুয়ারে রেলের হাতে সেই পরিমাণ জমি নেই বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
ফলে একদিকে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, অন্যদিকে রেলের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী মানুষদের পুনর্বাসন—দুই বিষয় নিয়েই এবার তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা।

