জলপাইগুড়ি, ৫ সেপ্টেম্বর
পাহাড়, জঙ্গল, নদী থেকে চা-বাগান—পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যকে এবার বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার লক্ষ্য রাজ্য সরকারের। আর সেই লক্ষ্যেই পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে নতুন করে সাজিয়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শনিবার ডুয়ার্সের লাটাগুড়িতে এসে এমনই বার্তা দিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাজ্য পর্যটন দপ্তর এবং রাজ্যের হোটেল মালিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে লাটাগুড়িতে আয়োজিত হয়েছিল ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেন পর্যটন মন্ত্রী। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পর্যটন সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন তিনি।
পর্যটন মন্ত্রীর কথায়, পশ্চিমবঙ্গের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা দেশের অন্য কোনও রাজ্যে নেই। কিন্তু সেই বৈচিত্র্যকে এখনও সেভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। এবার সেই অপরূপ সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যকে রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বাইরে, এমনকী বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে হবে।
শংকর ঘোষ বলেন, ভিনরাজ্য বা বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের অনেকেই মূলত দার্জিলিং, কার্শিয়াং ও কালিম্পংয়ের মতো জায়গাগুলির সঙ্গেই বেশি পরিচিত। অথচ ডুয়ার্স-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা। সেই জায়গাগুলিকে নতুন করে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।
এর জন্য নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্র বেছে নিয়ে সেখানে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি পরিবেশ এবং বন রক্ষার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেন মন্ত্রী।
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এর আগে যেভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পর্যটনের বিকাশ ঘটেছে, ভবিষ্যতে সেই পথে হাঁটা হবে না। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখেই পর্যটনের উন্নয়ন করতে হবে। পর্যটনকে ঘিরে সরকার আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে বলেও জানান তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ ডঃ জয়ন্ত কুমার রায়, মালবাজারের বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা, মাল মহকুমাশাসক উৎকর্ষ খান্ডাল, ক্রান্তির বিডিও রিমিল সোরেন-সহ হোটেল মালিক সংগঠনের রাজ্য ও জেলার একাধিক সদস্য।
বিশ্ব পর্যটন দিবসের এই অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিন আলিপুরদুয়ার থেকে ডুয়ার্স হয়ে চলাচলকারী দুটি এসি স্লিপার বাসের উদ্বোধন করেন পর্যটন মন্ত্রী। ফলে পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করার বার্তা মিলল এদিনের অনুষ্ঠান থেকে।
তাহলে কি এবার দার্জিলিং-কালিম্পংয়ের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন করে বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিতে চলেছে ডুয়ার্স? পর্যটন মন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে সেই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে।

