কোচবিহার, ৪ সেপ্টেম্বর
কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে ঐতিহ্যবাহী বড়দেবীর মন্দিরে সম্পন্ন হলো বাস্তুশান্তি পূজা। আর এই পূজার মধ্য দিয়েই এক অর্থে সূচনা হয়ে গেল কোচবিহারের ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী বড়দেবীর পুজোর।
এদিন দেবীবাড়ি মন্দিরে আয়োজন করা হয় বিশেষ পূজার। রাজ আমলের রীতি ও পরম্পরা মেনে নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বাস্তুশান্তি পূজা। পূজা শেষে দেবীকে নিবেদন করা হয় মিষ্টান্ন ভোগ।
তবে এখানেই শেষ নয়। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বড়দেবীর প্রতিমার মূল কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ময়না কাঠ দেবীবাড়ি মন্দিরে নিয়ে আসা হবে। এরপর মন্দির চত্বরে হবে ময়না কাঠের মহাস্নান। রাজ আমল থেকে চলে আসা রীতিনীতি মেনেই ময়না কাঠকে ঘিরে বিশেষ পূজার আয়োজন করা হবে।
পূজা-অর্চনা সম্পন্ন হওয়ার পর ট্রলিতে স্থাপন করা হবে সেই ময়না কাঠ। এরপর টানা তিনদিন ময়না কাঠকে রাখা হবে হাওয়ায়। এই প্রথা সম্পন্ন হওয়ার পর চতুর্থ দিন থেকে শুরু হবে বড়দেবীর প্রতিমা নির্মাণের কাজ।
কোচবিহারের রাজপরিবারের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বড়দেবীর পুজো। শতাব্দী পেরিয়েও সেই প্রাচীন রীতিনীতি আজও একইভাবে পালন করে আসছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষ্ণ অষ্টমীর তিথিতে বাস্তুশান্তি পূজার মাধ্যমে তাই কার্যত শুরু হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত সেই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের প্রস্তুতি। এবার ধাপে ধাপে ময়না কাঠ আনা থেকে শুরু করে প্রতিমা নির্মাণ—সবকিছুর দিকেই নজর থাকবে কোচবিহারবাসীর।
৫০০ বছরের ঐতিহ্য… সেই প্রাচীন রীতি মেনেই এবারও তৈরি হবে বড়দেবী।

