শিলিগুড়ি, ২৩ জুলাই:
জল জীবন মিশনের পাইপলাইন প্রকল্পে বড়সড় চুরির ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল প্রধাননগর থানার পুলিশ। প্রায় কুড়ি লক্ষ টাকার পাইপ চুরির অভিযোগ পাবার পর প্রধান নগর থানার আইসি বাসুদেব সরকারের নেতৃত্বে তদন্তে নেমে প্রধাননগর থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আলিপুরদুয়ার, ময়নাগুড়ি এবং বাগডোগরা থানা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা মূল্যের মোট ৩৯৭টি চুরি যাওয়া এইচডিপিই পাইপ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদার কালিয়াচকের বাসিন্দা মানস কুমার সাহা পশ্চিমবঙ্গ জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের অধীনে ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত। জল জীবন মিশনের আওতায় ‘কালকুট ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম’-এর পাইপলাইন বসানোর কাজ তাঁর সংস্থার হাতে ছিল। ওই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এইচডিপিই পাইপ প্রধাননগর থানার অন্তর্গত দেবিডাঙ্গা পূর্বপাড়ায় একটি খোলা জায়গায় মজুত রাখা হয়েছিল।
ঠিকাদার মানস কুমার সাহার
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ই এপ্রিল তিনি শেষবার ওই পাইপ মজুতস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সমস্ত পাইপ ঠিকঠাক অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু দীর্ঘদিন পর, গত ৩রা জুলাই পুনরায় সেখানে গেলে দেখা যায়, প্রায় ৩,৫২০ মিটার এইচডিপিই পাইপ রহস্যজনকভাবে উধাও। এরপর ৮ই জুলাই প্রধাননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৩(২) ধারায় একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে নেমে প্রথমে ঘটনাস্থলের নাইট গার্ড পবিত্র রায়কে গ্রেফতার করে প্রধাননগর থানার পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই অভিযুক্ত—সঞ্জয় বণিক এবং উজ্জ্বল মহন্তকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নির্দেশে ধৃতদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতরা চুরির ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং তাদের দেখানো মতে আলিপুরদুয়ার, ময়নাগুড়ি ও বাগডোগরা থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মোট ৩৯৭টি চুরি হওয়া এইচডিপিই পাইপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া পাইপগুলির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা।
পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই ধৃত তিনজনকে আদালতে তোলা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, চুরি হওয়া বাকি পাইপ কোথায় রয়েছে এবং সেগুলি কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।

