শিলিগুড়ি, ৫ জুলাই:
শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় চালু হল ট্রাফিক মার্শাল পরিষেবা। পুলিশের দাবি, এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলিতে আরও দ্রুত পৌঁছে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনাগ্রস্তদের সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা সম্ভব হবে।
এই উপলক্ষে শিলিগুড়ির মল্লাগুড়ির মৈনাক ট্যুরিস্ট লজে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রথম পর্যায়ে পাঁচটি ট্রাফিক মার্শাল বাইকের উদ্বোধন করা হয়। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিষেবার সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রেজা, পুলিশ কমিশনারেটের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিক, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বিশিষ্ট অতিথিরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ট্রাফিক মার্শালরা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মী হিসেবে মোটরবাইকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ব্যস্ত রাস্তা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত টহল দেবেন। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা নিয়ন্ত্রণ করা, ট্রাফিক সিগন্যাল বিকল হলে বিকল্পভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দুর্ঘটনার খবর পেলেই দ্রুত উদ্ধার ও প্রাথমিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই হবে তাঁদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
পুলিশ প্রশাসনের মতে, বড় গাড়ির তুলনায় মোটরবাইক দ্রুত সংকীর্ণ বা অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত রাস্তায় পৌঁছতে পারে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে অফিস টাইম, স্কুল-কলেজের সময় এবং উৎসবের মরশুমে বাড়তি যানচাপ সামাল দিতে এই ট্রাফিক মার্শাল পরিষেবা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই শহরের উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। সেই কারণে আধুনিক ও উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত পরিষেবা চালুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
অন্যদিকে, পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রেজা জানান, ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও দক্ষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাফিক মার্শাল বাইকের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। পাশাপাশি শহরবাসীকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও নিরাপদ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরবাসীর একাংশ। তাঁদের আশা, ট্রাফিক মার্শাল পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে যানজট কমবে, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সহায়তা মিলবে এবং শহরের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

