তুফানগঞ্জ, ২৬ মে:
রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। রাজ্যে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের আবহে কোচবিহারের তুফানগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক চক্রান্তের ঘটনা সামনে এলো। নাককাটি গাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের চামটা লোহাগারি এলাকায় তৃণমূলের অঞ্চল চেয়ারম্যান সুশান্ত সরকারের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাজানো নাটকটি হাতেনাতে ধরে ফেললেন তুফানগঞ্জ বিধানসভা ১ নং মন্ডল সভাপতি যুগল কিশোর দাস।
ঘটনার সূত্রপাত হয় তৃণমূল অঞ্চল চেয়ারম্যান সুশান্ত সরকারের একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টকে কেন্দ্র করে। তৃণমূল অঞ্চল চেয়ারম্যান সুশান্ত সরকার নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেই ভিডিওতে সুশান্ত সরকার দাবি করেন যে, বিজেপি দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে এবং তাঁর ঘরের ভেতরে থাকা একটি মোবাইল ফোন ও দুটি দামি শাড়ি চুরি করে নিয়ে গেছে দুষ্কৃতীরা। বিজেপি সরকার রাজ্যে শান্তি ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, তাই এই অপপ্রচারের খবর পাওয়া মাত্রই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে দলীয় কর্মীদের সাথে নিয়ে সরাসরি অঞ্চল চেয়ারম্যানের বাড়িতে হাজির হন বিজেপি মন্ডল সভাপতি যুগল কিশোর দাস। সেখানে সুশান্ত সরকারের স্ত্রী মহারানী সরকারের মুখোমুখি হয়ে তিনি যখন সরাসরি কথা বলতে শুরু করেন এবং জিজ্ঞাসা করেন, তখনই ঘটে সেই নাটকীয় মোড়। ভিডিওতে যে মোবাইল ফোনটি বিজেপি দুষ্কৃতীরা চুরি করে নিয়ে গেছে বলে সুশান্ত বাবু হইচই করছিলেন, সেটি মন্ডল সভাপতির তৎপরতায় ঘরের ভেতর থেকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়।
“তৃণমূল কংগ্রেস সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিনয় করছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নাককাটি গাছ অঞ্চল তথা আমার পুরো মন্ডলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, আর আমরা তা কোনোদিন ঘটতে দেবো না। নির্বাচনে পুরোপুরি পরাস্ত হয়ে এখন সস্তায় প্রচারের আলোয় আসতে এবং আমাদের বুথ সভাপতি ও নির্দোষ বিজেপি কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এরা পরিকল্পনা মাফিক নিজের ঘর নিজে ভেঙেছে এবং ভিডিও বানিয়ে চুরির মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে।”
যুগল কিশোর দাসের এই বক্তব্যের সপক্ষে এবং তৃণমূলের চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন অঞ্চল চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বাড়ির প্রতিবেশীরাও। মন্ডল সভাপতির তদন্তের সুরেই স্থানীয় মহিলারা জানান, “৪ঠা মে ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে আমাদের গ্রামে কোনো ঝামেলা হয়নি। এরা নিজেরা ঘরের জিনিস ভেঙে এখন মিথ্যে মামলা করার চেষ্টা করছে। ভাঙচুর হলে তো আমরা জানতাম, রাতে কোনো আওয়াজই আমরা কেউ পাইনি।” অপর এক প্রতিবেশী মৌমিতা দাস বলেন, “বিজেপির কেউ ভাঙচুর বা চুরি করেনি। ওরা নিজেরা ঘর ভেঙে এখন বিজেপি বুথ সভাপতি আর পাশের আরেকজনের নামে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে ফাঁসাতে চাইছে।” অন্য এক প্রতিবেশী ফুঁসে উঠে বলেন, “আমরা পাশাপাশি ঘরে থাকি, একটা টিউবওয়েলে চাপ দিলেও যেখানে শব্দ শোনা যায়, সেখানে এত বড় ভাঙচুর আর চুরির ঘটনা ঘটলো আর আমরা কেউ কিচ্ছু শুনলাম না! এটা ওদের সম্পূর্ণ সাজানো চক্রান্ত।”
বিজেপি মন্ডল সভাপতি যুগল কিশোর দাসের স্পষ্ট অভিযোগ, সুশান্ত সরকার অঞ্চল চেয়ারম্যান থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর, কাটমানি এবং সাধারণ মানুষের ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ করার মতো একাধিক দুর্নীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটতেই সেই সমস্ত কেলেঙ্কারি ঢাকতে এবং জনমানসে সহানুভূতি কুড়াতে তৃণমূল এই নোংরা ভিডিও নাটক ও চক্রান্তের আশ্রয় নিয়েছে। যুগল কিশোর দাস সাফ জানিয়েছেন, দলগতভাবে বিজেপি কোনো অশান্তি প্রশ্রয় দেয় না। কিন্তু যেখানে খোদ চেয়ারম্যানের পরিবার মিথ্যে নাটক করছে, সেখানে পুলিশকে এই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় তুফানগঞ্জ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। যদিও বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে তুফানগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি।

