তুফানগঞ্জ, ২৭ জুন
কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে ৪ তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে তুমুল বিক্ষোভ তুফানগঞ্জ ১ ব্লকের বালাভূত এলাকার গ্রামবাসীদের
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই ওলটপালট হয়ে গেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। আজ বিকেলে কাটমানির টাকা ফেরত এবং বিগত বছরগুলোতে চালানো সন্ত্রাসের হিসাব চাইতে সরাসরি তৃণমূল নেতাদের বাড়ির সামনে আছড়ে পড়ল উত্তেজিত গ্রামবাসীদের ক্ষোভ। আজ বিকেল থেকেই এলাকার চার দাপুটে তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গণরোষের আঁচ পেয়ে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাছাড়া রয়েছেন অভিযুক্ত ওই চার নেতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এই চার নেতা হলেন— প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি তথা বর্তমান গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য আশরাফুল হক বেপারী, অঞ্চল যুব সভাপতি হজরত আলী, বুথ সভাপতি আজিজুল হক এবং পঞ্চায়েত সদস্য জেন্নাত আলী। এলাকা জুড়ে এই চার নেতার বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি ও ত্রাসের রাজত্ব চালানোর একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই চার নেতার অন্যায় ও দুর্নীতি শুধু কাটমানি নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিগত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই নেতাদের নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস চালানো হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল যে, তৎকালীন সময়ে প্রাণভয়ে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের আতঙ্কে এলাকার বহু পরিবার বাধ্য হয়ে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে প্রতিবেশী রাজ্য অসমের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল সামনে আসতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। গণরোষের ভয়ে ফলাফল ঘোষণার দিন থেকেই গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপন করেন আশরাফুল হক বেপারী, হজরত আলী সহ বাকি দুই নেতা। নেতারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাছাড়া আজ বিকেল থেকে একজোট হয়ে পথে নামেন এতদিন ধরে অত্যাচারিত ও ঘরছাড়া হওয়া বাসিন্দারা। একযোগে ওই চার নেতার বাড়ির সামনে গিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আন্দোলনকারীদের সাফ দাবি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা কাটমানি হিসেবে আত্মসাৎ করা হয়েছিল, তা অবিলম্বে পাইপয়সা বুঝিয়ে ফেরত দিতে হবে। অন্যায় অত্যাচারের যেমন হিসাব হবে, তেমনই গরিবের রক্ত জল করা টাকাও ফেরত দিতে হবে।

