কোচবিহার, ১৩ জুন:
শনিবার সকালে কোচবিহার শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় যখন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা কোচবিহার পৌরসভার কাউন্সিলর অভিজিৎ দে ভৌমিকের বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়। একই সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সম্রাট কুণ্ডুর বাড়িতেও অভিযান চালায় পুলিশ। তবে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও দু’জনের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, শনিবার পুলিশ কোচবিহার শহরের ২ নম্বর কালীঘাট এলাকায় অবস্থিত অভিজিৎ দে ভৌমিকের বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। একই সময়ে কাছাকাছি এলাকায় সম্রাট কুণ্ডুর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। পুলিশের এই আকস্মিক পদক্ষেপ ঘিরে এলাকায় কৌতূহল ও জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিজিৎ দে ভৌমিক জেলার পরিচিত তৃণমূল নেতা। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি কোচবিহার পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক মহলে তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত।
অন্যদিকে, সম্রাট কুণ্ডুও অভিজিৎ দে ভৌমিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। শনিবার তাঁদের দু’জনের বাড়িতে একযোগে পুলিশি তল্লাশি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কোন মামলার সূত্রে এই অভিযান চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। বাড়ির বিভিন্ন নথি ও প্রয়োজনীয় তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। যদিও তল্লাশির সময় অভিজিৎ দে ভৌমিক কিংবা সম্রাট কুণ্ডু— কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে, পুলিশি তল্লাশির কারণ এবং এর নেপথ্যে কী রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মুখে কুলুপ এঁটেছে। তবে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির বাড়িতে একযোগে এই অভিযান নিঃসন্দেহে জেলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

