জলপাইগুড়ি, ১ জুলাই:
দীর্ঘ কয়েক দশকের অপেক্ষার অবসান কি এবার সত্যিই হতে চলেছে? জলপাইগুড়ি শহরের অন্যতম ব্যস্ত ৩ নম্বর রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণের সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন শহরবাসী। বুধবার এলাকায় ভূমি পরিমাপ ও জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হতেই ফ্লাইওভার নির্মাণের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে একদিকে যেমন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে রাস্তার ধারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
জলপাইগুড়ি শহরের ৩ নম্বর রেলগেট দীর্ঘদিন ধরেই যানজট এবং ভোগান্তির অন্যতম কারণ। স্বাধীনতার পর থেকেই এই রেলপথ দিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে দার্জিলিং মেল-সহ একাধিক দূরপাল্লা ও পণ্যবাহী ট্রেন। ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ রেলগেট বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই শত শত ছোট-বড় যানবাহন এবং পথচারীদের অপেক্ষা করতে হয়। অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক যান—সবকেই এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
সময়ের সঙ্গে জলপাইগুড়ি শহরের বিস্তার ঘটেছে। জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে যানবাহনের সংখ্যাও। ফলে ৩ নম্বর রেলগেটের যানজট এখন শহরের অন্যতম বড় নাগরিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বহু বছর ধরেই বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, নাগরিক মঞ্চ এবং সাধারণ মানুষ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।
বিভিন্ন সূত্রের খবর, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রকল্পে গতি এসেছে। রেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক সবুজ সংকেতের পর প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরুর দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বুধবার জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের আধিকারিকদের এলাকায় এসে জমি পরিমাপ এবং চিহ্নিতকরণের কাজ করতে দেখা যায়। এরপর থেকেই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে এই সম্ভাব্য প্রকল্পকে ঘিরে উদ্বেগও কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ধারে পূর্ত দফতরের জমিতে ছোট ছোট দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করছেন বহু মানুষ। তাঁদের আশঙ্কা, ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ বা রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ শুরু হলে তাঁদের দোকান সরিয়ে দিতে হতে পারে। ফলে বহু পরিবারের রুজি-রোজগারের উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁরা প্রশাসনের কাছে পুনর্বাসন এবং বিকল্প ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে, পাণ্ডাপাড়া-সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ফ্লাইওভার নির্মাণকে সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই ফ্লাইওভার তৈরি হলে দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে এবং শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। তবে একইসঙ্গে তাঁদের দাবি, নির্মাণকাজের সময় বিদ্যমান রাস্তা যাতে চলাচলের উপযোগী থাকে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে অযথা ভোগান্তি না হয়, সেদিকেও প্রশাসনকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
শহরবাসীর একাংশের মতে, ফ্লাইওভার নির্মাণ শুধু যানজট কমাবে না, ভবিষ্যতের জলপাইগুড়ির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং কবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পের কাজ শুরু হয়, সেদিকেই।

