জলপাইগুড়ি, ২২ জুন
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। সোমবার দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে জলপাইগুড়িতে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, চা শিল্পের ভবিষ্যৎ এবং চা শ্রমিকদের কল্যাণ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ২০১৯ সাল থেকে উত্তরবঙ্গের মানুষ যেভাবে বিজেপিকে সমর্থন ও আশীর্বাদ করে আসছেন, তার প্রতিফলন এবার সরকারের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
চা শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হল চা শিল্প। লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকদের নানা সমস্যা, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাব নিয়ে উদ্বেগ ছিল। সেই বিষয়গুলি মাথায় রেখেই সরকার চা শ্রমিকদের জন্য ওয়েলফেয়ার বোর্ড গঠন করেছে বলে জানান তিনি।
সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য, এই বোর্ডের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা সরাসরি সরকারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, এতদিন চা শিল্পের ক্ষেত্রে আসাম বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এসেছে, কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গের চা শ্রমিকরাও সেই ধরনের সুবিধা ওসরকারি সহায়তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি একাধিক উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গে একটি আইআইটি প্রতিষ্ঠা, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, এইমস হাসপাতাল গঠন, বস্ত্র শিল্পের জন্য বিশেষ হাব তৈরি এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি মেট্রো রেল পরিষেবার মতো প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।
তাঁর মতে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, গোটা পূর্ব ভারতের উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিল্পায়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। একইসঙ্গে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হবে।
সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এসেছে। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে উত্তরবঙ্গকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। চা শিল্প, পর্যটন, কৃষি এবং ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশকে কেন্দ্র করে আগামী দিনের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন এবং উত্তরবঙ্গের জন্য ঘোষিত পরিকল্পনাগুলি কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

