শিলিগুড়ি, ৬ সেপ্টেম্বর :
সারাদিন খবরের পিছনে ছুটে চলা, ব্যস্ত কর্মজীবন আর অনিয়মিত জীবনযাত্রার মাঝে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার সময় কোথায়? সাংবাদিকদের সুস্বাস্থ্য ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস ক্লাব। ক্লাবের উদ্যোগে এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শীর্ষেন্দু পালের সহযোগিতায় রবিবার ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় বিনামূল্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির।
কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের ১৩ নম্বর গেটে অবস্থিত শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস ক্লাব প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির। কর্মব্যস্ত সাংবাদিকদের কথা মাথায় রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয় শিবিরে।
শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. শীর্ষেন্দু পাল। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী সাংবাদিকদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেসার, লিপিড প্রোফাইল, HbA1c এবং ইউরিনারি অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন রেশিও বা UACR-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচক পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে অন্যান্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়।
সাংবাদিকদের মতো ব্যস্ত পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অনেক সময় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সুযোগ হয়ে ওঠে না। সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শুধু একদিনের শিবির নয়, আগামী দিনেও নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি শিবিরে সর্বোচ্চ ৩০ জন সাংবাদিক এই পরিষেবার সুযোগ পাবেন। ‘ফার্স্ট কাম, ফার্স্ট সার্ভ’ ভিত্তিতে দেওয়া হবে এই পরিষেবা।
শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তারক সরকার জানান, সাংবাদিকদের ব্যস্ত কর্মজীবনের কারণে অনেক সময় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো সম্ভব হয় না। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতনতার মাধ্যমে সাংবাদিকদের সুস্থ রাখাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান চিকিৎসক ডা. শীর্ষেন্দু পালও। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান জীবনযাত্রায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন লাইফস্টাইলজনিত কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা বাড়ছে। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ধরনের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। দ্রুত রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করাই এই ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।
খবরের ব্যস্ততার ফাঁকে সাংবাদিকদের নিজেদের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়ার এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।

