পশ্চিমবঙ্গে জোড়া নিম্নচাপ অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব অব্যাহত!
দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের ওপর দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে দুটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করছে, যার ফলে বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের আকাশ যেন মেঘমুক্ত হতেই পারছে না। দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় সারাদিনই মেঘলা আকাশ। কোথাও বৃষ্টিপাত না হলেও মেঘের আধিপত্য অব্যাহত, আবার উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি থেকে কখনও কখনও অবিরাম ভারী বর্ষণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
🔴উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া:-
*************************
আগামী কাল ১০ জুলাই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা আগের দিনগুলির তুলনায় কিছুটা কমলেও দুর্যোগের সতর্কতা বহাল থাকছে।
ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও এক-দু’জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তবে আগের দিনের চেয়ে বৃষ্টির তীব্রতা সামগ্রিকভাবে কিছুটা কমতে শুরু করবে।
বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়া: উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই বজ্রঝড় ও বিদ্যুৎ-চমকের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
পাহাড়ি অঞ্চলে সতর্কতা: লাগাতার বৃষ্টির কারণে দার্জিলিং এবং কালিম্পং-এর মতো পার্বত্য এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা থাকছে।
নদীর জলস্তর বৃদ্ধি: প্রবল বর্ষণের জেরে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ও রায়ডাক নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে পারে এবং নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাপমাত্রা: সমতল এলাকায় (যেমন শিলিগুড়ি বা জলপাইগুড়ি) দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে।
🔴দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া :-
***************************
আগামী ৪৮–৭২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের যে কোনো জেলায় হঠাৎ করেই শক্তিশালী বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত, কোথাও কোথাও প্রবল বজ্রপাত এবং অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আগামীকাল ১০ জুলাই দক্ষিণবঙ্গে শক্তিশালী নিম্নচাপ অক্ষরেখা ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে প্রবল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সকালের দিকে আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং বেলার বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টির তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে।
ঝোড়ো হাওয়া: ঝোড়ো হাওয়ার দাপট থাকবে। কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
কলকাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি: কলকাতায় সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ থাকবে এবং দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে নিচু এলাকাগুলিতে সাময়িক জলমগ্নতা এবং যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।
তাপমাত্রা: তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকবে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯° সেলসিয়াস থেকে ৩২° সেলসিয়াসের মধ্যে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকবে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে কিছুটা ভ্যাপসা ভাব বজায় থাকবে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা: সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে ১০ জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
🔴কোচবিহারে আবহাওয়া :–
**************************
আগামীকাল ১০ জুলাই কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিনের অধিকাংশ সময় আকাশ প্রধানত মেঘাচ্ছন্ন থাকবে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল কোচবিহারের
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: প্রায় ৩২° সেলসিয়াস (৯০° ফারেনহাইট) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে প্রকৃত গরম বা অনুভূতি আরও বেশি হতে পারে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: রাতের দিকে তাপমাত্রা কমে ২৬° সেলসিয়াসের (৮০° ফারেনহাইট) কাছাকাছি নামতে পারে।
বৃষ্টির পূর্বাভাস: বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৯৩%। মূলত দিনভর দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আর্দ্রতা: বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৮৮% থেকে ৯৭% পর্যন্ত থাকতে পারে, যার ফলে চরম ভ্যাপসা গরম অনুভূত হবে।

