জলপাইগুড়ি , ২২ জুন
জলপাইগুড়ি-ময়নাগুড়ি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের উল্লাডাবরী এলাকায় ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনার পর শোকের আবহ এখনও কাটেনি। সোমবার সকালে সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়। পাশাপাশি প্রায় ৪০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার তদন্তে নেমে এনবিএসটিসির সিএনজি বাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে জলপাইগুড়ি থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এনবিএসটিসির একটি সিএনজি বাস। উল্লাডাবরী এলাকায় পৌঁছনোর পর রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে বাসটি। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের ভেতরে থাকা বহু যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ, দমকল এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আহতদের মধ্যে অনেককেই প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনও উদ্বেগজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার খবরে মৃত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। হাসপাতাল চত্বরে আত্মীয়-পরিজনদের ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বাসচালকের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এনবিএসটিসির বাসচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হয়। বাসটি কী গতিতে চলছিল, চালকের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, অথবা দুর্ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণপরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দুর্ঘটনার পর রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন জানিয়েছিলেন, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে চালকের অবহেলা বা ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, জাতীয় সড়কের ধারে ভারী যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আরও কড়া নিয়ম প্রয়োগ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের সতর্কতা বৃদ্ধির বিষয়েও জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে। তাঁদের মতে, নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
উল্লাডাবরীর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের একবার সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন সকলের নজর পুলিশি তদন্তের দিকে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন মহল। অন্যদিকে, আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এলাকার মানুষ এবং নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

