আলিপুরদুয়ার, ২৮ আগস্ট
লোকালয়ে ফেলে রাখা আবর্জনার স্তূপই এবার হাতির জন্য ডেকে আনছে বিপদ। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাটের প্রধাননগরের সামনে টুকরো ফরেস্ট এলাকায় নষ্ট হয়ে যাওয়া প্যাকেটজাত খাবার ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর সেই আবর্জনার স্তূপ থেকে খাবারের খোঁজে বারবার একটি হাতি এলাকায় চলে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন থেকে চার দিন আগে কে বা কারা দোকানের নষ্ট হয়ে যাওয়া প্যাকেটজাত খাবার সেখানে ফেলে রেখে যায়। এরপর থেকেই ওই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি শুরু হয়েছে নতুন বিপত্তি। রাতের পাশাপাশি দিনের বেলাতেও একটি হাতিকে আবর্জনার স্তূপে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে।
হাতিটির ঘন ঘন যাতায়াত নিয়ে আতঙ্কিত এলাকাবাসী। পাশাপাশি হাতিটির স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে। প্লাস্টিক-সহ প্যাকেটজাত খাবার খেলে বন্যপ্রাণীর শরীরে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মনোজ প্রধান বলেন, মানুষের বসতি এলাকায় এভাবে আবর্জনা ফেলে যাওয়ার কোনও অর্থ নেই। এতে শুধু এলাকাবাসীর অসুবিধাই হচ্ছে না, হাতির মতো বন্যপ্রাণীও লোকালয়ে চলে আসছে। প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করছে হাতি, পাশাপাশি গৃহপালিত পশুরাও ওই আবর্জনার দিকে যাচ্ছে। বিষয়টি বনদপ্তরের নজরে এনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান তিনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, এলাকাটি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন। পাশে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেখানে দিনের পর দিন আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশপ্রেমীরা।
পরিবেশপ্রেমী সুপেন দাসের দাবি, বন্যপ্রাণীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বনদপ্তরকে বিষয়টির দিকে কড়া নজর দিতে হবে। তাঁর মতে, এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তার ফুটেজ খতিয়ে দেখে আবর্জনা ফেলে যাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা জরুরি। একজনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হলে ভবিষ্যতে অন্যরাও সতর্ক হবে বলে মনে করছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, মানুষের অসচেতনতার কারণে একদিকে যেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, তেমনই অন্যদিকে লোকালয়ে চলে আসা বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য নিয়েও তৈরি হচ্ছে বড় প্রশ্ন।

