কোচবিহার, ২ সেপ্টেম্বর
রাস্তার ধারে থুতু ফেলা কিংবা প্রকাশ্যে প্রস্রাব করার অভ্যাস আছে? তাহলে এবার সাবধান! কারণ কোচবিহার শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কড়া পদক্ষেপের পথে পুরসভা। যেখানে-সেখানে থুতু ফেললেই ১০০ টাকা, আর প্রকাশ্যে প্রস্রাব করলে দিতে হবে ২০০ টাকা জরিমানা।
রাজার শহর কোচবিহারকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখতে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে জরিমানার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, শহরের রাস্তা, ফুটপাথ কিংবা প্রকাশ্য জায়গায় অপরিচ্ছন্নতা ছড়ানোর মতো আচরণ আর বরদাস্ত করা হবে না।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এবার সত্যিই কি বদলাবে শহরের ছবি? দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে থুতু ফেলা, প্রকাশ্যে প্রস্রাব করা কিংবা যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার মতো অভিযোগ রয়েছে। এবার সেই অভ্যাসে লাগাম টানতেই জরিমানার ব্যবস্থা সামনে আনা হয়েছে।
বিশেষ করে প্রকাশ্যে প্রস্রাবের প্রবণতা বন্ধ করতে পুরসভার এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ‘প্রকৃতির ডাক’ মেটানোর অভ্যাস থাকলে এবার শুধু অস্বস্তিই নয়, পকেট থেকেও দিতে হতে পারে মাশুল।
একইভাবে যেখানে-সেখানে থুতু ফেলার ক্ষেত্রেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। পুরসভার বক্তব্য, শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়, প্রতিটি নাগরিকেরও। নাগরিকরা সচেতন না হলে শুধুমাত্র পুরসভার উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন শহর তৈরি করা সম্ভব নয়।
পুরসভার তরফে আরও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোচবিহার শুধুমাত্র একটি সাধারণ শহর নয়। রাজাদের ঐতিহ্য বহনকারী এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস ও সংস্কৃতি। ফলে শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সকলের দায়িত্ব।
নিয়ম মানলে শহর থাকবে পরিষ্কার, আর নিয়ম ভাঙলে পকেটও কি পরিষ্কার হয়ে যাবে? পুরসভার এই কড়া বার্তার পর এবার কতটা পরিবর্তন আসে, সেটাই দেখার।
শহরবাসীর একাংশের মতে, শুধু জরিমানা করলেই হবে না, পর্যাপ্ত শৌচাগার, ডাস্টবিন এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা দরকার। তাহলেই সচেতনতা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ—দুইয়ের মিলিত প্রভাবে কোচবিহারকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।
পুরসভার লক্ষ্য স্পষ্ট—পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং সুন্দর কোচবিহার। এখন দেখার, জরিমানার এই কড়া বার্তা নাগরিকদের অভ্যাসে কতটা পরিবর্তন আনে।

