আলিপুরদুয়ার, ২৪ জুলাই:
নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় মাদক ক্যাপসুল উদ্ধারের ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল জয়গাঁ থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতকে আজ আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের দলসিংপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপাল বাহাদুর বস্তির রাই টোল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। ২৩ জুলাই রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জয়গাঁ থানার পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে। এরপর ওই এলাকার বাসিন্দা হেম বাহাদুর ছেত্রী (৩৭)-এর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির সময় অভিযুক্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় ক্যাপসুল। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় ‘পিয়েভন স্পাস প্লাস’ ব্র্যান্ডের ৭২০টি এবং ‘লেবোরেট’ ব্র্যান্ডের ৫৫৮টি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১,২৭৮টি নিষিদ্ধ মাদক ক্যাপসুল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া সমস্ত সামগ্রী আইন মেনে বাজেয়াপ্ত করা হয়। কালচিনি সার্কেলের সার্কেল ইন্সপেক্টর সূর্য শেখর ঘোষ এবং জয়গাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মিগমা শেরপার উপস্থিতিতে তল্লাশি, উদ্ধার, ভিডিওগ্রাফি, সিলিং এবং বাজেয়াপ্তকরণের সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অভিযানে জয়গাঁ থানার সিভিক ভলান্টিয়ারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্তের গতিবিধির উপর নজর রাখা হয় এবং পরে পরিকল্পনা করে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের এই অভিযানে বড় সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, ধৃত হেম বাহাদুর ছেত্রী নিজেও ওই ধরনের নেশাজাতীয় ক্যাপসুল সেবন করতেন এবং এলাকায় তা বিক্রি করতেন। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মাদারিহাট এলাকার এক কথিত মাদক ওষুধ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে এই ক্যাপসুলগুলি তাঁর কাছে পৌঁছেছিল। তবে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করেই তদন্ত থেমে থাকছে না। এই নিষিদ্ধ মাদক সরবরাহের পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, ক্যাপসুলগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।
ধৃতের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতে পেশ করে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ, যাতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মাদক চক্রের আরও তথ্য সামনে আনা যায়।
জয়গাঁ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নিষিদ্ধ মাদক পাচার ও বিক্রি রুখতে পুলিশ বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধারের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে। পুলিশের এই অভিযানের ফলে এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে বড়সড় বার্তা গিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

