শিলিগুড়ি, ১৫ জুন:
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা আরও সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শিলিগুড়িতে শুরু হল জনকল্যাণ শিবির। সোমবার শিলিগুড়ি শহরের দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন ইন্ডোর স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে পুরনিগমের ৩ নম্বর বোরো অফিসের উদ্যোগে এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়। শিবিরে উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন রাজ্যের শঙ্কর ঘোষ।
শিবিরের প্রথম দিন থেকেই মানুষের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বহু মানুষ এসে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণের জন্য আবেদন করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। বিশেষ করে আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার এবং বার্ধক্য ভাতা সংক্রান্ত পরিষেবা গ্রহণের জন্য শিবিরে মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
শিবির পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন। বার্ধক্য ভাতা সংক্রান্ত সমস্যায় পড়া কয়েকজন প্রবীণ নাগরিকের সঙ্গে তিনি পৃথকভাবে আলোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য শোনার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দেন এবং আবেদনপত্র ও নথিপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়ার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হল সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের হয়রানি কমিয়ে আনা এবং প্রশাসনিক পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করে তোলা। সেই উদ্দেশ্যেই এই ধরনের জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে মানুষ এক ছাদের নিচে একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন করতে পারছেন।
পরবর্তীতে শিবিরে উপস্থিত মানুষদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন মন্ত্রী। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি সকলের উদ্দেশে বার্তা দেন, প্রত্যেকে যেন নিজেদের মায়ের নামে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করেন এবং সেটিকে সন্তানের মতো যত্ন করে বড় করে তোলেন। তাঁর এই আহ্বানে শিবিরে উপস্থিত মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়।
জনকল্যাণমূলক পরিষেবা প্রদানের পাশাপাশি পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও তুলে ধরায় শিবিরটি এক বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বহু মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।

