বক্সিরহাট, ১১ মে :
তৃণমূলের হয়ে প্রচারে যোগ না দিলে মিলত না ঋণ। নতুন দল গড়তে গেলেও গুনতে হতো টাকা। একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সোমবার সংঘের ঘরে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন বিভিন্ন মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। সংঘ কমিটি পরিবর্তনের দাবিতে বিডিও দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানান তাঁরা। তথ্য লোপাটের অভিযোগ তুলে নেত্রীর বাড়ি ঘিরেও চলে বিক্ষোভ। সোমবার তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের মহিষকুচি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
মহিষকুচি -১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় তিনশোর বেশি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে নিয়ে ‘মহিলা উন্নয়ন সংঘ’ গঠিত হয়েছে। নিয়ম মেনে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ও কয়েকটি উপসংঘের নেত্রী নির্বাচন করে দীর্ঘ বছর ধরে কাজ চলছে।
শ্রুতি নামে এক স্বনির্ভর দলের সভানেত্রী কল্যাণী বর্মন বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনও স্বনির্ভর দল ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হলে সংঘের অনুমতি প্রয়োজন। সেই ঋণ নিতে গেলে আগে সংঘকে মোটা টাকা কমিশন দিতে হয়। শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যেকটি মিটিং মিছিলে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হতো।
একই অভিযোগ তুলেছেন অপর এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সভানেত্রী সুমিতা মোদক। তিনি আরও বলেন, আমদের জন্য স্বনির্ভর পোলট্রি ফার্ম, জৈব সার তৈরির জন্য সাবসিডি লোন এলে তা সংঘের সদস্যরা নিজেদের মধ্যেই ভাগ করে নেন। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আজ সংঘের ঘরে তালা ঝুলিয়েছি। এবং কমিটি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছি।
যদিও এই নিয়ে সংঘের নেত্রী মঞ্জরি সরকারকে মন্ডলকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ওই মহিলা উন্নয়ন সংঘের সম্পাদক মিতালী বর্মন। তাঁর মন্তব্য, আমাদের কেউ তৃণমূলের মিটিংয়ে যেতে হতো। কিন্তু লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

