শিলিগুড়ি, ১২ জুন:
রাজ্যের পর্যটন ও পরিষদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছালেন শংকর ঘোষ। কলকাতা থেকে বিমানযোগে এসে পৌঁছানো মন্ত্রীকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন, হোটেল ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা। মন্ত্রীকে ফুলের তোড়া ও শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত জানান উপস্থিতরা।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শংকর ঘোষ বলেন, রাজ্যের পর্যটন দপ্তর এবং পরিষদীয় বিষয়ক দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা হবে। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিনই তিনি দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন এবং পর্যটন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য যেখানে পাহাড়, সমুদ্র, জঙ্গল, নদী, ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য, ধর্মীয় পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য—সবকিছুরই এক অনন্য সমাহার রয়েছে। এই বহুমাত্রিক পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক পরিকাঠামোর মাধ্যমে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রে বেশ কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে, যার সুফল পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকলেই অনুভব করতে পারবেন।
শংকর ঘোষ আরও বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা নয়, বরং পর্যটনকে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল, ডুয়ার্স, তরাই এবং দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলিকে নতুনভাবে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, “ট্যুরিজম ফর অল ক্লাসেস” নীতিকে সামনে রেখেই কাজ করবে পর্যটন দপ্তর। অর্থাৎ সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য পর্যটনকে আরও সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং আকর্ষণীয় করে তোলাই হবে মূল লক্ষ্য। মধ্যবিত্ত, নিম্ন আয়ের পরিবার থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পর্যটকদের জন্যও পৃথক পরিকল্পনা গ্রহণের কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্থানীয় শিল্পকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হবে।
পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং আইনের মধ্যে থেকে কাজ করলে সমস্ত সমস্যার সমাধানে প্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। তিনি আশ্বাস দেন, হোটেল ব্যবসায়ী, ট্রাভেল অপারেটর, গাইড, পরিবহণ ব্যবসায়ীসহ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা হবে এবং যৌক্তিক দাবি-দাওয়া বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী শংকর ঘোষের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে। উত্তরবঙ্গ সফরের মাধ্যমে সেই পরিকল্পনারই প্রাথমিক রূপরেখা তুলে ধরলেন তিনি। আগামী কয়েক মাসে পর্যটন ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যের পর্যটন মহল ও সাধারণ মানুষের।

